সোমবার, মার্চ ২৩, ২০২৬

সম্মিলিতভাবে সততার সাথে কাজ করলে পিরোজপুরের চেহারা পাল্টে যাবে: মাসুদ সাঈদী 

জাকির হোসেন পিরোজপুর ।।
পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেছেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুরের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে সততার সাথে কাজ করলে পাঁচ বছরে জেলার চেহারা পাল্টে যাবে। তিনি বলেন- আমাদের একটি মাত্র লক্ষ্য উদ্দেশ্য আমরা পিরোজপুরকে ঢেলে সাজাতে চাই। আমরা কাউকে কোনো দূর্নীতি করতে দেব না। দূর্নীতি, মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত পিরোজপুর আমরা গড়বো, এটাই আমাদের অঙ্গিকার। আমি বিশ্বাস করি আমাদের দুই দলের নেতৃবৃন্দ আমাদের সামনে এবং পিছনে ঢাল হয়ে থাকবেন, ইনশাআল্লাহ।
রোববার রাত ৯ টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সম্মানে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর সৌজন্যে ঈদ পুনর্মিলনী ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ।
মাসুদ সাঈদী আরও বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর ১ আসন থেকে আমরা দুজন মানুষ প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলাম আপনারা দুজনের মধ্য থেকে আমাকে নির্বাচিত করেছেন এজন্য আমি আপনাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন জনাব আলমগীর হোসেন তিনিও পিরোজপুরে একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য চেষ্টা করেছেন আমাদের দুজনার চেষ্টায় পিরোজপুর একটি সুন্দর সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়েছে। এজন্য আমি আলমগীর ভাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, একই সাথে তিনি নতুন করে জেলা পরিষদের প্রশাসক নিযুক্ত হয়েছেন বিধায় আমি তাকে আবারো শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
তিনি এই অনুষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন- এভাবে অতীতে সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সুধী ও গুণীজনদের নিয়ে কোনো প্রোগ্রাম হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।
এই অনুষ্ঠানটি করার জন্য আমি উৎসাহিত হয়েছি মানুষ আমাদেরকে ভোট দিয়েছে নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য পুরানো বন্দোবস্তকে বাদ দিয়ে নতুন একটি বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখে এদেশের মানুষ তাই তারা একদলকে ভোট দিয়ে সরকারে পাঠিয়েছে নতুন একটি বাংলাদেশ দেখার জন্য, সেই পুরনো কালচারে তারা আর থাকতে চায় না মানুষ পরিবর্তন চায়। এই পরিবর্তনের সূত্র ধরেই পিরোজপুর-১ আসনে আমরা এই আয়োজনের সূচনার চেষ্টা করেছি। দেখুন যারা পিরোজপুরকে নেতৃত্ব দেন, পিরোজপুরকে ঢেলে সাজানোর স্বপ্ন দেখেন, পিরোজপুরকে নিয়ে যারা ভাবেন, পিরোজপুরের যারা রূপকার তারা সকলেই আজ এই টেবিলে বসে আছেন। নিশ্চয়ই সেটা একটি মাইলফলক হিসেবে থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি যা আজকের এটা সূচনা হলো। অন্তত বছরে একবার হলেও একটা লোকেশনে একটা উৎসবকে কেন্দ্র করে আমরা সকলে একত্রিত হব তাহলে মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া, ইলেকট্রিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারবে যে পিরোজপুরের উন্নয়ন, পিরোজপুরে দল মত নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দের ব্যাপারে জামায়াত ও বিএনপি একাট্টা হয়ে কাজ করছে। আমি বিশ্বাস করি পিরোজপুরের মানুষ নতুন করে উজ্জীবিত হবে যা দেশবাসীর কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এটাই আজকের এই অনুষ্ঠানের মেসেজ। সম্মানিত নেতৃবৃন্দ, অতিথিবৃন্দ সুধিমন্ডলী আপনারা এখানে এসে উপস্থিত হয়ে আমাকে সম্মানিত করেছেন এজন্য আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
এমপি মাসুদ সাঈদী আরও বলেন, ৫ই আগস্ট এর পূর্বে যে রাজনৈতিক অপকালচার ছিল অপসংস্কৃতি ছিল আমরা ১২ ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে তা বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি এবং আমরা যে একটি সুস্থ সুন্দর এবং সম্প্রীতির রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পেরেছি তারই জলন্ত দৃষ্টান্ত আজকের এই অনুষ্ঠান।
পিরোজপুর জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক শেখ এর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন- জেলা বিএনপি’র আহবায়ক নজরুল ইসলাম খান, সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ জহিরুল হক, পিরোজপুর জজকোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আকন, ব্যারিস্টার এম সরোয়ার হোসেন, সরকারি সোহরাওয়ার্দি কলেজের অধ্যক্ষ পান্নালাল রায়, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ও সুজনের সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক মনিরুজ্জামান নাসিম আলী, পিরোজপুর চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রবসহ আরও অনেকে।
নজরুল ইসলাম খান তার বক্তব্যে বলেন- ৫ই আগস্ট এর পূর্বে যে রাজনৈতিক অপকালচার ছিল, অপসংস্কৃতি ছিল আমরা ১২ ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে তা বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি এবং আমরা যে একটি সুস্থ সুন্দর এবং সম্প্রীতির রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পেরেছি তারই জলন্ত দৃষ্টান্ত আজকের এই অনুষ্ঠান। এজন্য আমি এমপি সাহেবকে ধন্যবাদ জানাই।
ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন- ২০০৯ সাল থেকে পিরোজপুরে একটি ডার্ক সোসাইটি ছিল একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন জগত ছিল। ছোট্ট একটি উদাহরণ দিব ১২৫টি ব্রিজ দুর্নীতিবাজ দুই ভাই মহারাজ এবং মিরাজ খেয়ে ফেলেছে। কাগজে-কলমে সম্পূর্ণ দেখিয়ে পুরা বিল তুলে নিয়েছে অথচ কোথাও ব্রিজ তৈরি হয়নি, পিরোজপুরকে দুর্নীতির একটি স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছিল তারা। আরেকটি উদাহরণ হল দীর্ঘ ১৫ বছরে পিরোজপুরের মেইন রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য ছিল, কোন উন্নয়ন হয়নি।
সিনিয়র সাংবাদিক মনিরুজ্জামান নাসিম আলী তার বক্তব্যে বলেন- সংসদে আমরা কোনো খেজুরি আলাপ দেখতে চাইনা শুনতেও চাই না, আল্লামা সাঈদীর সন্তান হিসেবে আমরা আপনাকে একজন বিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে সংসদে দেখতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি সেই যোগ্যতা সেই জ্ঞান সেই মেধা সেই প্রজ্ঞা আল্লাহ আপনাকে দিয়েছে, আপনি জাতির প্রত্যাশিত সেই ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন উপজেলা থেকে দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

আরো পড়ুন

তজুমদ্দিনে বিদায়ী শিক্ষকদের সংবর্ধনা, ‘উদারতার দেয়াল’ আত্মপ্রকাশ

বিশেষ প্রতিবেদক।। ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার গোলকপুর রাজকুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এক ব্যতিক্রমী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *