বুধবার, আগস্ট ৫, ২০২৬

সাদা কাগজে ঠিকানা পড়তেই অজ্ঞান, ৪ দিন পর কিশোর সৌরভ দাস উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের ভাটিখানা এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া এক স্কুলছাত্রকে চার দিন পর কক্সবাজারের ঈদগাঁও থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সাদা কাগজে লেখা ঠিকানা পড়তে গিয়েই সে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছে ওই কিশোর।

এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়া হয়। বর্তমানে সে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। উদ্ধার হওয়া কিশোরের নাম সৌরভ দাশ শান। সে বরিশালের কালেক্টর স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ভাটিখানা এলাকার সজল দাশ ও মিতু দাশের বড় ছেলে। তার বাবা সৌদি প্রবাসী।

শান জানায়, গত শনিবার (২ মে) মায়ের কথামতো আট হাজার ৫০০ টাকা তুলতে সে বাসা থেকে বের হয়ে একটি বিকাশের দোকানে যায়। টাকা তুলে সামনের একটি দোকান থেকে খিচুড়ির অর্ডার দিয়ে রাস্তায় হাঁটছিল সে। এ সময় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাকে একটি সাদা কাগজে লেখা ঠিকানা পড়তে বলেন। ওই ঠিকানা পড়ার পর পরই চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসে তার, হারিয়ে ফেলে জ্ঞান।

ধারণা করা হচ্ছে, তাকে অজ্ঞান করতে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা স্কোপোলামিন জাতীয় কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল। অজ্ঞান অবস্থায় তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও বিকাশের সেই সাড়ে আট হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়।

এরপর চার দিন তার আর কোনো স্মৃতি নেই। মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে কক্সবাজারের ঈদগাঁও ব্রিজ এলাকায় সে অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিল। স্থানীয় এক নারী ও পুরুষ তাকে উদ্ধার করে ঈদগাঁও থানায় নিয়ে যান। পুলিশ তাকে খাবার ও চিকিৎসা দেয়ার পর সে কিছুটা সুস্থ বোধ করে।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার জানান, ছেলেটি বিস্তারিত কিছু বলতে না পারায় গুগলের সাহায্যে তার দেয়া সম্ভাব্য এলাকার তথ্য যাচাই করা হয়। পরে বরিশালের কাউনিয়া থানায় করা একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্র ধরে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।

তার পকেট থেকে ‘ব্লুবার্ড ট্রাভেলস’-এর দুটি বাসের টিকিট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি টিকিটে গত রোববার (৩ মে) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে বিরামপুর যাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে এবং শানের নাম লেখা আছে। সেখানে একটি ১০ ডিজিটের অসম্পূর্ণ মোবাইল নম্বরও দেয়া আছে। অন্য টিকিটটিতে গন্তব্য দিনাজপুর লেখা থাকলেও নাম বা নম্বর নেই। পুলিশ ধারণা করছে, নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে দিনাজপুর ও বিরামপুরেও নেয়া হয়েছিল।

ওসি আরও জানান, কিভাবে এবং কারা শানকে অচেতন করল তা তদন্তের পর জানা যাবে। শানের পরিবারকে খবর দেয়া হয়েছে। তারা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এবং পৌঁছালে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পুরো ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে কক্সবাজার ও বরিশাল পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে।

আরো পড়ুন

আমতলীতে সড়ক হয়ে উঠেছে মরণ ফাঁদ! 

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি খানাখন্দে ভরে গেছে আমতলী-তালতলী সড়কের মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা সড়কের ৮.৪ কিলোমিটার। এতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *