বাউফল প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর বাউফলে ফিরোজ নামে এক তরমুজ চাষীর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতে গিয়ে জনতার হাতে গনপিটুনিতে উজ্জল কর্মকার(৪০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় গনপিটুনিতে গুরুতর আহত হয়েছেন মিজানুর রহমান (৪৫) ও শামীম(৩৫) নামে আরো দুই যুবক। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকালে ৫ টার দিকে উপজেলার মূল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের কাশেম গাজীর ছেলে তরমুজ চাষী ফিরোজের কাছে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ওরফে সেরাজ ডাক্তারের ছেলে মিজানুর রহমান। ঘটনার দিন মঙ্গলবার বিকালে ফিরোজ ফিরোজ তাঁর চাষাবাদ করা তরমুজ ক্ষেত থেকে তরমুজ কেটে ট্রলারে উঠাচ্ছিলেন।
এ সময় পূর্ব থেকে চাঁদা দাবি করা মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ৭/৮ জনের একটি দল লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিরোজের তরমুজ কাটায় বাঁধা দেয় এবং ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাদের দাবিকৃত টাকা দিতে ফিরোজ অস্বীকৃতি জানালে ফিরোজকে এলাপাতাড়ি ভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে তাঁরা। এ সময় তার ( ফিরোজের) ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তাদেরকেও হাৃলার চেষ্টা করে।
এ সংবাদ পুরো এলাকা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে পৌছে ফিরোজের ওপর হামলাকারীদের মধ্যে মিজানুর রহমান , উজ্জল কর্মকার ও শামীমকে আটক করে গনপিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে আহতদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উজ্জল কর্মকার মারা যান। আহত তরমুজ চাষী ফিরোজ ও তাঁর ওপর হামলাকারী আহত শামীমকে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মিজানুর রহমান চন্দ্রদ্বীপে তরমুজ খেতে যাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ওই জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত তরমুজ কাটতে না বলায় ফিরোজ আমি সহ আমাট লোকজনদেরকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.সিরাজুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধার করে পটুয়াখালী মর্গে পাঠানোর কাজ চলমান। পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।