আমতলী প্রতিনিধি : আমতলীতে এক শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে ছোট ভাইয়ের জামাই শাহজাহান গাজীর আছারে ফুফু শ্বাশুরী জরিনা বেগম (৬৬) নামে এক বৃদ্ধা চার দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে মারা যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টার সময় আমতলী পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের বরফকল এলাকার মৃত মোসলেম হাওলাদারের বাড়িতে এঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রদের সূত্রে জানা গেছে, আমতলী পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের বরফকল এলাকার মৃত মোসলেম হাওলাদারের স্ত্রী নিহত জরিনা বেগমের ভাই আব্দুর রব হাওলাদার ও তার মেয়ের জামাই মো. শাহজাহান গাজীর সাথে ১শতাংশ জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। বিরোধীয় এ জমির মধ্যে জরিনা বেগমের ঘরের একটি বারান্দা রয়েছে। প্রতিপক্ষ রব হাওলাদার এবং তার জামাই শাহজাহান গাজী ঘর সড়িয়ে অন্যদিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছে।
এ নিয়ে রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় জরিনা বেগমের ছেলেদের সাথে রব হাওলাদার ও জামাই শাহজাহান গাজীর সাথে বাগবিতন্ড শুরু হয়। এক পর্যায়ে রব হাওলাদার জামাই মাহজাহান গাজী মেয়ে রুমা বেগম ছেলে রাকিব ও সাকিব মিলে জরিনা বেগমমের দুই ছেলে লিটন সিকদার ও রিপন সিকদারকে মারধর শুরু করেন। এসময় মা জরিনা বেগম বাধা দিলে শাহজাহান গাজী জরিনা বেগমকে উপরে জাগিয়ে পাঁকার উপর আছার মেরে ফেলে দেন।
আছারে জরিনা বেগম অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্বজনরা তাৎক্ষনিক উদ্ধার করে তাকে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। তার আবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকাল সাড়ে ৫টার সময় জরিনা বেগম মারা যান।
নিহতের ছেলে লিটন সিকদার বলেন, আমার পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছি। আমার মামা রব হাওলাদার এবং তার জামাই শাহজাহান গাজী আমাদের ঘরের মধ্যে জমি দাবী করে ঘরের বারান্দা ভেঙ্গে নিয়ে যেতে বলে।
এ নিয়ে ঝগড়ার এক পর্যায়ে মামা রব হাওলাদার তার জামাই শাহজাহান গাজী মেয়ে রুমা বেগম ছেলে রাকিব ও সাকিব মিলে আমাদেরকে মারধর শুরু করে এসময় আমার মা জরিনা বেগম বাধা দিলে শাহজাহান গাজী আমার মাকে উপরে তুলে পাঁকার উপর আছার মেওে ফেলে দেয়।
এতে সে গুরুতর আহত হয়ে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বুধবার ভোর ৫টার সময় মারা যান। তিনি আরো বলেন, আমি এই হত্যাকান্ডের কঠিন শাস্তি চাই। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এখনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।