মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৭, ২০২৬

জ্বালানি সংকট, বিপর্যস্ত মৎস্য খাত, দিশেহারা উপকূলীয় জেলেরা

মাহতাব হাওলাদার, মহিপুর প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর মহিপুর-আলীপুর  মৎস্য বন্দর দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। যেটি একসময় জেলে, হকার ও পাইকারদের হাকডাকে সরব থাকতো এটি এখন যেন নীরবতায় আচ্ছন্ন। জ্বালানি সংকট, সমুদ্রে মাছের স্বল্পতা এবং সামনে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা এই তিন চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এখানকার হাজারো জেলে ও মাঝি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বন্দরের ঘাটে সারি সারি ট্রলার দাঁড়িয়ে থাকলেও বেশিরভাগই সাগরে যেতে পারছে না। ডিজেলের অভাবে অনেক ট্রলার বন্ধ রয়েছে, আর যেগুলো যাচ্ছে সেগুলোও সীমিত সময় সমুদ্রে থাকতে পারছে।
গত কয়েক বছর মাছের তীব্র সংকট রয়েছে, আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকেই দাদনের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।
মহিপুর মৎস্য বন্দরের জেলে মোতালেব মাঝি বলেন, আগে মাসে ২০-২৫ দিন সাগরে থাকতে পারতাম। এখন তেলের অভাবে ১০-১২ দিনের বেশি থাকা যায় না। এতে খরচই উঠে না, লাভ তো দূরের কথা।
হারুন মাঝি বলেন, একদিকে তেলের সংকট, অন্যদিকে সামনে নিষেধাজ্ঞা। আমরা পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না। অনেকেই এখন ধার-দেনা করে দিন পার করছে। কয়েক বছর কোন মাছের দেখাই নাই।
জেলেদের দাবি, প্রয়োজনীয় ডিজেল সরবরাহ না থাকায় বন্দরের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ ট্রলার কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে মাছ আহরণ কমে গেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
মাছের সংকটে বাজারে প্রভাব মহিপুর-আলীপুর বন্দরে প্রতিদিন যে পরিমাণ মাছ ওঠার কথা, তা এখন অনেকটাই কমে গেছে। বিশেষ করে বড় আকারের সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গভীর সমুদ্রে যেতে না পারায় বড় মাছ প্রায় আসছেই না, ফলে বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে।
সামনে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা এ অবস্থার মধ্যেই আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। প্রতি বছর মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও এবার এটি জেলেদের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, জ্বালানি সংকটের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। জেলেদের সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারিভাবে খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হবে।
চরম সংকটে জেলে পরিবার জ্বালানি সংকট, মাছের স্বল্পতা ও দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা—এই ত্রিমুখী চাপে মহিপুর-আলীপুরের জেলে পরিবারগুলো এখন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। অনেক পরিবারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইয়াসিন সাদিক বলেন, সামনে নিষেধাজ্ঞার কথা বিবেচনা করে আমরা সরকারি মূল্যে জেলেদের মধ্যে ডিজেল সরবরাহ করেছি। জেলেদের সমস্যার সমাধানে আমরা তাদের পাশে আছি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং জেলেদের জন্য বিকল্প সহায়তা নিশ্চিত না করা হলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে।

আরো পড়ুন

দেশের প্রতি উপজেলায় একটি করে স্টেডিয়াম হবে : ক্রীড়ামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বিসিসি প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর ফাইনালে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *