নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক বৃদ্ধার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দাফনের সময় নিয়ে স্বজনদের মধ্যে নজিরবিহীন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মৃতদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর দাফন দ্রুত করা না কি বিলম্বে করা এই দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে রক্তপাত ঘটিয়েছেন নিহতের স্বজনরা। বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে হাসপাতালের মেডিসিন ভবনের নিচতলায় এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি জেলার সদর কেওড়া ইউনিয়নের সরেঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব খাদিজা বেগম কিডনি জনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে গত ৩০ মার্চ শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পর হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়।
নিহতের বড় ছেলে আব্দুল হালিম জানান, তার মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে ঢাকা থেকে অনেক নিকটাত্মীয় রওনা হয়েছেন। তারা না পৌঁছানো পর্যন্ত দাফন কার্য সম্পন্ন না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেন নিহতের নাতনি জামাই আলামিন ও স্বজন রাজু। আলামিনের দাবি ছিল, ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী মরদেহ যত দ্রুত সম্ভব দাফন করা উচিত।
দাফনের সময় নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বড় ছেলে হালিম অভিযোগ করে বলেন, মা মারা গেছেন, আমরা শোকে স্তব্ধ। ঢাকা থেকে স্বজনরা আসার অপেক্ষা করার কথা বলতেই আলামিন ও তার সহযোগীরা আকস্মিক আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। লাশের সামনেই তারা বৃষ্টির মতো কিল-ঘুষি ও হামলা চালায়।
এই সংঘর্ষে নিহতের বড় ছেলে হালিম এবং স্বজন মুক্তাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৪ জন আহত হন। হাসপাতালের সামনে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখে সাধারণ রোগী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাসপাতালের দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা জানান, যেখানে স্বজনদের কান্নায় ভেঙে পড়ার কথা, সেখানে এমন মারামারি অত্যন্ত দুঃখজনক। বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে আনসার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার জুয়েল জানান, বিষয়টি জানার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় দুই পক্ষকে শান্ত করা হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং লাশের মর্যাদার কথা ভেবে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে তাদের বাড়ির উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
মায়ের মরদেহ সামনে রেখে সন্তানদের এমন আচরণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বড় ছেলে হালিম আরো বলেন, মানুষ মারা গেলে লাশ সামনে রেখে যারা এমন তণ্ডব চালাতে পারে, তাদের বিচার আল্লাহর কাছে জানাই।
বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং মরদেহ দাফনের জন্য ঝালকাঠির গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।