শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২৬

শেবাচিম প্রাঙ্গণে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা ও ওয়াকওয়ে: নান্দনিকতার ছোঁয়ায় বদলাচ্ছে হাসপাতালের পরিবেশ

খান আব্বাস, বরিশালঃ
বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) প্রাঙ্গণে যুক্ত হয়েছে এক নতুন নান্দনিক মাত্রা। হাসপাতালের চারপাশের সুপ্রশস্ত হাঁটার পথের (ওয়াকওয়ে) পাশাপাশি এখন বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে যোগ হয়েছে আধুনিক ফোয়ারা। বিশেষ করে হাসপাতালের সামনে অবস্থিত ‘মাঝ গেট’ সংলগ্ন ওয়াকওয়ের দুই পাশে স্থাপন করা হয়েছে দুটি দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা, যা পুরো এলাকাটিকে এক আধুনিক ও মায়াবী রূপ দিয়েছে।
২০২৫ সালের ৪ঠা নভেম্বর প্রধান ফোয়ারাটি উদ্বোধন করা হলেও, বর্তমানে মাঝ গেট এলাকার নতুন দুটি ফোয়ারা এবং চারপাশের সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ আরও বৃহৎ পরিসরে চলমান রয়েছে। রাতের আঁধারে বেগুনি ও উজ্জ্বল আলোর ঝলকানিতে সজ্জিত এই ফোয়ারাগুলো হাসপাতাল প্রাঙ্গণকে দিয়েছে এক প্রশান্তিদায়ক পরিবেশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, মূল হাসপাতাল ভবনের সামনে নবনির্মিত ওয়াকওয়ের কেন্দ্রে একটি বৃত্তাকার বহুস্তর বিশিষ্ট ফোয়ারা রয়েছে। এর পাশাপাশি মাছ গেট সংলগ্ন ওয়াকওয়ের দুই পাশের নতুন ফোয়ারাগুলো বিকেলের পর থেকে এক মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে। পেছনের বহুতল ভবনের গায়ে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা উজ্জ্বল সাইনবোর্ডগুলোর পটভূমিতে এই আধুনিক স্থাপত্য এখন হাসপাতালের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মনির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশগত সৌন্দর্যবর্ধনে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এই আধুনিক ওয়াকওয়ে এবং এর বিভিন্ন পয়েন্টে ফোয়ারা স্থাপন মূলত তাঁরই ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও পরিকল্পনার ফসল।
উদ্বোধনের পর কয়েক মাস পার হয়ে গেলেও মাছ গেট এলাকা ও প্রধান ওয়াকওয়ের আশপাশের ঘাস লাগানো, বাগান তৈরি এবং আনুষঙ্গিক সাজসজ্জার কাজ এখনও পূর্ণোদ্যমে চলছে। কাজের কারণে ওয়াকওয়েটি এখনও রোগীদের হাঁটার জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়নি। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দাবি, দ্রুত যেন এই নির্মাণ কাজ শেষ করে পুরো ওয়াকওয়েটি খুলে দেওয়া হয়। তাদের মতে, অসুস্থ রোগীদের একটু খোলা বাতাসে হাঁটাচলা করা দ্রুত সুস্থতার জন্য সহায়ক।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকা হাসপাতাল চত্বরে এমন পরিবর্তন দেখে মুগ্ধ বরিশালবাসী। ওয়াকওয়েতে ঘুরতে আসা একাধিক রোগীর স্বজন বলেন, আগে এখানে হাঁটার মতো কোনো পরিবেশ ছিল না। এখন চমৎকার রাস্তা হয়েছে, দুই পাশে সুন্দর আলোর ফোয়ারা বসেছে। কাজগুলো পুরোপুরি শেষ হলে এটি রোগীদের জন্য দারুণ একটি জায়গা হবে।
এ বিষয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মনির জানান, রোগীদের শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক স্বস্তিও অত্যন্ত জরুরি। এই ফোয়ারা এবং ওয়াকওয়ের উদ্দেশ্য হলো হাসপাতালে আগতদের একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও মনোরম পরিবেশ উপহার দেওয়া।
চিকিৎসা সেবার গুমোট পরিবেশ কাটিয়ে একটি প্রশান্তিদায়ক আবহাওয়া তৈরি করার এই উদ্যোগকে সচেতন মহল সাধুবাদ জানিয়েছেন। দ্রুত কাজ শেষ করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হলে এটি দক্ষিণাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ এই চিকিৎসাকেন্দ্রের মর্যাদা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো পড়ুন

চরফ্যাশনে নদীতে গোসল করতে নেমে ইটভাটা শ্রমিক নিখোঁজ

চরফ্যাশন প্রতিনিধিঃ ভোলার চরফ্যাশনে মায়া নদীতে গোসল করতে নেমে আলমগীর (৩৫) নামে এক ইটভাটার শ্রমিক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *