সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

লালমোহনে মাদ্রাসায় দানের জমিতে ওরকাইতের বাঁধা নির্মানাধীন ভবনের কাজ বন্ধ করায় বিপাকে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার লালমোহনের কালমা ইউনিয়নে একটি কাওমী মাদ্রাসায় দান করা  নির্মানাধীন ভবনের কাজে বাঁধা দিয়েছে দাতার জমিতে থাকা ওরকাইত। ভবনের কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও মাদ্রাসার শিক্ষকগণ বিপাকে পড়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এসব শিক্ষার্থীর একদিকে আবাসন সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়বে, অন্যদিকে পাঠদানে ব্যাঘাত  সৃষ্টি হবে বলে জানান এলাকাবাসী।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতাদের পক্ষে ওই এলাকার মো. জিয়াউল হক, মো. জিল্লুর রহমান ফরহাদ বলেন, উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড চরছকিনা গ্রামের মুন্সি বাড়িতে গত ৪০ বছর যাবৎ আমরা ১ একর ১২ শতাংশ জমিতে বাড়ি ঘর করে বসবাস করে আসছিলাম। বর্তমানে এলাকাবাসীর দাবি ও পরকালের চিন্তা করে পুরো জমি কাওমী মাদ্রাসায় দান করে দেই। গত ৪ বছর পর্যন্ত মাদ্রাসাটি চলমান রয়েছে। এতে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী নিয়মিত হাফিজি ও দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলা এবং ইংরেজি বিষয়ে পড়ালেখা করছেন। আগামীতে মাদরাসাটি বড় ধরণের ইসলামী কমপ্লেক্স করার লক্ষ্যে  আবাসিক শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য ৩ তলা পাকা ভবন নির্মান করার উদ্যোগ নেই। এতে নিচ তলায় মসজিদ ও উপরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও আবাসিক হিসেবে ব্যবহার করার জন্য কাজ শুরু করি।
নিচতলার ফাইলিং ও পিলারের কাজ শেষ হওয়ার পর হঠাৎ করে এলাকার

সফিজল মুন্সির স্ত্রী লুৎফা বেগম ভোলা কোর্টে ১৪৪/১৪৫ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলা করেন। ভোলা ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে করা মামলার তদন্ত দেওয়া হয় লালমোহন ভূমি অফিসে, ভূমি অফিস তদন্ত পূর্বক মাদ্রাসার পক্ষে রিপোর্ট প্রদান করেন।
তারা আরো জনান, আমরা লালমোহন বাজারে ব্যবসা করার সুবাদে সফিজল মুন্সিকে আমাদের জমিতে নির্মিত ঘরে থাকতে দেই। এছাড়া তাকে আমাদের জমি জমা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেই। এরপর মাদ্রাসার ঘর নির্মানের সময় তাদেরকে আমাদের ঘর ছেড়ে দিতে বললে তারা ঘর ছেড়ে না দিয়ে উল্টো শালিস ডাকেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে শালিসের রায় অনুযায়ী আমরা তাদেরকে নগদ ৫ লক্ষ টাকা প্রদান করি। টাকা পাওয়ার পর তারা আমাদেরকে হয়রানি করার জন্য বর্তমানে ভবন নির্মানের কাজে বাধা প্রদান করছেন। বর্তমানে কাজ বন্ধ থাকায় ইট, বালু, রড, সিমেন্টসহ ভবনের মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
এ ব্যাপারে সফিজল মুন্সির স্ত্রী লুৎফা বেগম বলেন, এই সম্পত্তিতে আমাদের অংশ রয়েছে। তারা আমাদের পাওনা অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে বহুতল ভবনের কাজ নির্মান শুরু করেছেন। যার জন্য আমরা আদালতে মামলা করেছি।
এ ব্যাপারে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল ইসলাম বলেন, আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলার পর দুই পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় উপস্থিত হতে বলি। কিন্তু বিবাধী পক্ষ কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হলেও বাদী লুৎফা বেগম উপস্থিত হননি। আমরা তদন্ত করে দেখেছি বাদী লুৎফা ওই বাড়িতে ওকরাইত হিসেবে ছিলেন।

আরো পড়ুন

লালমোহনে বাজার ও মসজিদের দখলীয় জায়গা গোপনে চান্দিনা ভিটির নামে ডিসিআর প্রদান

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:  ভোলার লালমোহনের গজারিয়া বাজার, গরু ছাগল ও হাঁসমুরগীর বাজার, ব্যক্তিগত ভোগদখলীয় এবং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *