শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬

চরফ্যাশনে চাঁদা না পেয়ে কৃষক পরিবারের ওপর হামলা, একজন আশঙ্কাজনক

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোলার চরফ্যাশনে তরমুজ চাষকে কেন্দ্র করে এক কৃষক পরিবারের ওপর চাঁদাবাজি, সশস্ত্র হামলা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মোহাম্মদ জাফর প্যাদা। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে তার পরিবারের ওপর সংঘটিত ধারাবাহিক সহিংসতার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

জাফর প্যাদা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের ৫ কানি জমিতে তরমুজ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তরমুজের ফলন ভালো হওয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। অভিযোগ অনুযায়ী, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মৃত রত্তন হাওলাদারের ছেলে বিএনপি নেতা ইসমাইল হাওলাদার তার সহযোগীদের নিয়ে তাদের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে তরমুজ বাজারজাত করতে দেওয়া হবে না এবং ক্ষেত নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তরমুজ পচনশীল হওয়ায় এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় তারা বাধ্য হয়ে দেড় লাখ টাকা প্রদান করেন।

তিনি আরও জানান, বাকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে নলুয়া সুলিজ বাজার এলাকায় তার পিতা লাল মিয়া প্যাদার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তাকে ফেলে রেখে যায়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ইসমাইল হাওলাদার, তার ভাই লতিফ হাওলাদার, মৃত মতি হাওলাদারের ছেলে ফিরন হাওলাদার, ইসমাইলের ছেলে মাইনুদ্দিন, লতিফের ছেলে এরশাদ ও রাসেল, মুসা হাওলাদারের ছেলে হৃদয় ও মনির, তুহিন হাওলাদারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জন।

হামলার সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা লাল মিয়া প্যাদাকে হত্যা করে গুম করার হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে অভিযোগ করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানান তার ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে জাফর প্যাদা আরও বলেন, এই হামলা ছিল পরিকল্পিত এবং ধারাবাহিক। এর দুই দিন আগে, ১৬ এপ্রিল, তার বড় ভাই সাদ্দাম প্যাদাকেও একই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী চরফ্যাশন থেকে বাড়ি ফেরার পথে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকেও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসা শেষে বর্তমানে কিছুটা সুস্থ রয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তারা আইনি প্রতিকার চাইলে হামলাকারীরা উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। নাসির মুন্সি নামে একজন ৪ লাখ টাকা দাবি করে এবং আব্বাস মুন্সি ৮০ হাজার টাকা দাবি করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেন তিনি। তাদের সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন নেই বলেও উল্লেখ করেন।

এছাড়া, পুরো পরিবারকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করতে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জাফর প্যাদা। তার পিতাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে তাকে একটি দলের কর্মী হিসেবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার পিতা হাসপাতালের বেডে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন। এমন পরিস্থিতিতে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি হামলা, চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এ সময় জাফর প্যাদার সাথে তার মামা রুহুল আমিন সিকদার উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন

গৌরনদীতে তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের গৌরনদীতে পৃথক অভিযানে তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *