নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরী ও জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায় পৃথক দুই সহিংস ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে নগরীতে এক মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে বাকেরগঞ্জে বিরোধীয় জমিতে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে হামলায় প্রাণ গেছে এক বৃদ্ধের। দুই ঘটনাতেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শুক্রবার ভোর রাতে বরিশাল নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশপুর তিন রাস্তার মোড়ে বাবু শিকদার (৩০) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত বাবু শিকদার ওই এলাকার কালাম শিকদারের ছেলে ও দুই সন্তানের জনক।
নিহতের পরিবার দাবি করেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় চিহ্নিত কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রক মধু ওরফে টোকাই মধু বাবুর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় শুক্রবার ফজরের নামাজের আগে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
নিহতের ভাই নাঈম হোসেন জানান, টোকাই মধুর নেতৃত্বে ভাটিখানার হাতকাটা রেদওয়ান, তালতলী মাছ বাজারের রুবেল ওরফে খাটো রুবেল, ফকির রাজু, সাজ্জাদ ও সৈকতসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাবুর ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় বাবু শিকদারকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়রা কিশোর গ্যাং সদস্য শহীদ ওরফে কালা শহীদ ও মটু সিয়ামকে আটক করে কাউনিয়া থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার ওসি সনজিত চন্দ্র নাথ বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে এর নেপথ্যে মাদক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে একই দিন বিকেলে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গারুড়িয়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামে বিরোধীয় জমিতে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় হালিম হাওলাদার (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত চারজন।
নিহত হালিম হাওলাদার হেলেঞ্চা গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। আহতরা হলেন— মালেক হাওলাদার (৬৫), দেলোয়ার হাওলাদার (৫০), মিজানুর রহমান (৪০) ও খবির শিকদার (৫০)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের চাচাতো ভাই শহিদুল ইসলাম জানান, দেলোয়ার হাওলাদারের ক্রয়কৃত একটি জমি নিয়ে একই এলাকার রিপন হাওলাদার, আউয়াল মেম্বার, সুমন হাওলাদার ও উজ্জ্বল গ্রুপের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার বিকেলে ওই জমিতে বালু ভরাট করতে গেলে প্রতিপক্ষের ২৫-৩০ জন দেশীয় অস্ত্র, রড, বাঁশ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়।
হামলার একপর্যায়ে হালিম হাওলাদার বাঁশের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে বুকে বাঁশ দিয়ে খুঁচিয়ে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। আহতদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কিছুক্ষণ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় হালিম হাওলাদারের মৃত্যু হয়।
নিহতের ছোট ভাই দেলোয়ার হাওলাদার বলেন, “আমার ক্রয়কৃত জমিতে বালু ভরাট করতে গেলে রিপন হাওলাদার ও আউয়াল মেম্বারের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমার বড় ভাইসহ কয়েকজন আহত হন। পরে ভাই মারা যান।”
বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন বলেন, বিরোধীয় জমিতে বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।