সোমবার, মে ১১, ২০২৬

লালমোহনে খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ

আজিম উদ্দিন খান, লালমোহন : ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের শত বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ‘পেশকার হাট’ সংলগ্ন প্রাকৃতিক খালটি অবৈধ দখল ও ভরাটের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। খালের জায়গা দখল করে পাকা ভবন ও দোকান ঘর নির্মাণের ফলে একসময়ের প্রমত্তা জলপথ এখন সরু নালায় পরিণত হয়েছে।
এতে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে স্থানীয় কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশের ওপর। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রবীণরা জানান, একসময় এই পেশকার হাটের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালে দূর-দূরান্ত থেকে শত শত পণ্যবাহী নৌকা এসে ভিড়ত।
বাজারের পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ড্রেন এবং ব্যবসায়ীদের ব্যবহারের জন্য একটি বিশাল ঘাটলা ছিল। কিন্তু বর্তমানে নূর ইসলাম শিকদার ও মালেক দালাল নামের দুই ব্যক্তি ড্রেনের ৬ ফুট মুখ ও ঘাটলার জায়গা দখল করে স্থায়ী পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তাদের এই ভবনের অধিকাংশ অংশ খালের মধ্যে এবং মাটি ভরাট করে খালটিকে সংকুচিত করা হচ্ছে। বাজারের ব্যবসায়ী, কৃষক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালের মুখ ও ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বাজারে পানি জমে যায়। কৃষকেরা সেচ ও পণ্য পরিবহনে সমস্যায় পড়ছেন। স্থানীয়রা অবিলম্বে এই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুর ইসলাম সিকদার  ব্যবসায়ী নাছির, সালাউদ্দিন ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রাসেল আমার ঘরের কাজ বন্ধ করেছে। তারা টাকা চেয়েছে, কিন্তু টাকা আমি আগেই দিয়েছি। তিনি বলেন, ওই এলাকায় আরও অনেকেই আগে থেকে খালের ওপর ঘর তৈরি করেছেন, তাই ওনার ঘরটিও সেখানে করা হয়েছে। তিনি স্থানীয় কাউকে দায়ী না করে বরং সরকারি নির্দেশের কথা স্বীকার করছেন।
বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রাসেল বলেন, নুর ইসলাম শিকদার ও নাছির এ দুজনের ঘর তুলে খাল দখল করছেন, বাজারের ড্রেনের জায়গা এবং ঘাটলার জায়গা দখল করে পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করছেন। বিষয়টি নজরে আসায় সম্প্রতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন লালমোহন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজওয়ানুল হক। পরিদর্শন শেষে তিনি জানান:
“আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কাজ তাৎক্ষণিক বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে পুরো হাট ও খালের ওপর একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে ডিসিআর (DCR) বহির্ভূত কোনো স্থাপনা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।”
তিনি আরও জানান, এই বাজারটি এখনো ‘পেরিফেরিভুক্ত’ হয়নি। ভবিষ্যতে বাজারটির উন্নয়নের পরিকল্পনায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও খালের সৌন্দর্য রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এছাড়া সরকারি কর্মসূচির আওতায় লালমোহনের অন্যান্য খালের মতো এই খালটিও খনন ও দখলমুক্ত করার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী পেশকার হাট ও এর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

আরো পড়ুন

ছাত্রদলের সাবেক নেতার মুক্তি দাবিতে ভোলায় সড়ক অবরোধ

ভোলা প্রতিনিধি : ভোলায় কোস্টগার্ডের হাতে গ্রেফতার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *