বুধবার, জুন ১০, ২০২৬

পরকীয়ায় বাঁধা দেওয়ায় স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ

ফরিদ আহমেদ, নেছারাবাদ : পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর (সিএ) রনজিৎ হালদারের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় স্বামীর মারধরে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিচার দাবি করেছেন স্ত্রী পপি রানী মিস্ত্রী। নির্যাতিতা পপি রানী মিস্ত্রি  উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা পদে কর্মরত রয়েছেন।
পপি রানী মিস্ত্রীর অভিযোগ, স্বামী রনজিৎ হালদার দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়ায় আসক্ত এবং এতে বাধা দেওয়ায় তাকে নিয়মিত প্রায়ই নির্যাতন করা হয়। বুধবার সন্ধ্যার পরও তাকে বেদম মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পপি রানী জানান, তাদের সংসারে দুইটি শিশু সন্তান রয়েছে। দুই বছর ধরে তার স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন। এতে বাধা দিলে নানা অজুহাতে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এমনকি পপি রানী মিস্ত্রী নিজের চাকরির বেতনও তুলতে পারেন না। নতুন মাস এলেই তাকে মারধর করে চেকে অগ্রিম স্বাক্ষর নিয়ে বেতন উঠিয়ে নেন স্বামী রনজিৎ হালদার।
তিনি আরও জানান, এর আগেও নির্যাতনের ঘটনায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন, তাতে কোনো সুফল পাননি তিনি।  তার স্বামীর আচরণের কারণে ঘরে কোনো কাজের লোক থাকতে পারে না। কিছুদিন আগে বেড়াতে এসে স্বামীর আচরণে সেদিন রাতেই বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তার বোন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় ওই রাতেও পপিকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছেন স্বামী রনজিৎ হালদার। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সন্ধ্যায় তাকে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পপির বোন ও স্কুলশিক্ষিকা শিল্পি মিস্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, তার বোনের স্বামী রনজিৎ হালদার লোভী প্রকৃতির ও সুদের কারবারের সঙ্গে জড়িত। আর্থিক লেনদেন ও পারিবারিক নানা বিষয়ে কথা বলায় তার বোনকে প্রায়ই মারধর করা হয়। তার দাবি, রনজিৎ পরকীয়ায় আসক্ত এবং এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেই বোনের উপর নির্যাতন চালান রনজিৎ।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে রনজিৎ হালদার মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি স্ত্রীকে মারিনি। সে নাটক সাজিয়ে হাসপাতালে গেছে।’ এ সময় পরকীয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি)  মো. মেহেদী হাসান বলেন, ভুক্তভোগী থানায় এসেছিলেন। তাকে চিকিৎসা নিয়ে এসে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, অফিসের কাজে সকালে জেলায় যাব। দুপুরের পরে আমার কাছে এলে ভুক্তভোগী ওই স্কুলশিক্ষিকার অভিযোগ আমি নিজে শুনবো এবং শুনে প্রয়োজনে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরো পড়ুন

অসহায় হাবিব-হালিমা দম্পতির জন্য নতুন ঘর নির্মাণে এগিয়ে এলো ‘পাশে দাঁড়াই’

মাহতাব হাওলাদার, মহিপুর প্রতিনিধি: মানবতার কল্যাণে আরও একটি মহৎ উদ্যোগের সূচনা করতে যাচ্ছে পটুয়াখালী জেলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *