শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

কুয়াকাটা সৈকতে গভীর রাতে বিষধর সামুদ্রিক সাপের দেখা, পর্যটকদের সতর্ক থাকার আহ্বান

মাহতাব হাওলাদার,মহিপুর প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে গভীর রাতে একটি বিষধর সামুদ্রিক সাপ দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (রাত আনুমানিক আড়াইটা) সৈকতের পূর্ব প্রান্তে যশোর থেকে আগত কয়েকজন পর্যটক এটি দেখতে পান।
পরে পর্যটকরা সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে সমুদ্রের পানিতে অবমুক্ত করেন এবং ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।
পর্যটক আসিফ ইকবাল জানান, গভীর রাতে সৈকতে হাঁটার সময় জিরো পয়েন্টের পূর্ব পাশে বালুর ওপর অস্বাভাবিক রঙের একটি সাপ দেখতে পান তারা। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে ধারণা করেন এটি একটি সামুদ্রিক সাপ। এরপর সেটিকে নিরাপদে সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
বন বিভাগ ও উপকূলীয় পরিবেশ আন্দোলনের তথ্য অনুযায়ী, এটি ‘হলুদ পেট রঙ্গিলা সামুদ্রিক সাপ’ (Yellow-bellied Sea Snake), যার বৈজ্ঞানিক নাম Hydrophis platurus। প্রজাতিটি অত্যন্ত বিষধর সামুদ্রিক সাপ হিসেবে পরিচিত।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু বলেন, সম্প্রতি কুয়াকাটা সৈকতে এ নিয়ে তিনটি সামুদ্রিক সাপের দেখা মিলেছে। এর আগে পাওয়া দুটি সাপ উদ্ধার করে নিরাপদে অবমুক্ত করা হয়েছিল। সর্বশেষ সাপটিও পর্যটকরাই সমুদ্রে ফিরিয়ে দিয়েছেন।
সাপ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী বায়জিদ মুন্সী জানান, এ প্রজাতির সাপ সাধারণত গভীর সমুদ্রেই বিচরণ করে। তবে বৈরী আবহাওয়া, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা তীব্র জোয়ারের কারণে মাঝেমধ্যে উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে।
তিনি আরও বলেন, এই সাপের বিষে শক্তিশালী নিউরোটক্সিন রয়েছে, যা মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। এমন সাপ দেখা গেলে কেউ যেন ধরার বা বিরক্ত করার চেষ্টা না করে, দ্রুত বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।
বিশেষজ্ঞরা উপকূলীয় এলাকায় ভ্রমণকারী পর্যটকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

আরো পড়ুন

চরফ্যাশন-বেতুয়া-ঢাকা নৌরুটে ‘রোটেশন’ প্রথা বাতিলের দাবি, লিগ্যাল নোটিশ

চরফ্যাশন  প্রতিনিধি: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া-ঢাকা নৌরুটে চলমান কথিত ‘রোটেশন’ প্রথার মাধ্যমে যাত্রীদের পছন্দমতো লঞ্চে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *