মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬

নেছারাবাদে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর গর্ভপাত, থানায় জিডি 

ফরিদ আহমেদ, নেছারাবাদ : পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদের বলদিয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়ী গ্রামে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ আফসানার গর্ভের সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর রবিবার ( ৭ জুন) সন্ধ্যায় এই তথ্য নিশ্চিত হওয়ার কথা জানান ভুক্তভোগী পরিবার। গুরুতর আহত অবস্থায় আফসানা ও তার স্বামী মো. আলী আকবর বর্তমানে বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রবিবার ( ৭ জুন) বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে ভুক্তভোগী পরিবার বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে রাজাবাড়ী গ্রামের কয়েকজন প্রতিবেশী আলী আকবরের ওপর হামলা চালায়। এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আফসানা। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা আফসানার ওপরও আক্রমণ চালিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে তার গর্ভের দুই মাসের সন্তান নষ্ট হয়ে যায় বলে দাবি করেছেন পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা।
আহত আফসানার পিতা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তিনি তার মেয়ে ও জামাতাকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে পথিমধ্যে উপজেলার ইন্দেরহাট বাজার এলাকায় তাদের ওপর আবারও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে আহতদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে তাদের নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শেরে-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীদের নির্যাতনের কারণেই তার মেয়ের গর্ভপাত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে তার জামাতা কিছুটা শঙ্কামুক্ত থাকলেও মেয়ে আফসানার শারীরিক অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। অভিযুক্ত অনিক দাবি করেন, তিনি হামলার সঙ্গে জড়িত নন। বরং তার বাবা-মার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। একইভাবে আফসানা ও আলী আকবরকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত চাঁন মিয়া ও রওশনারা।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। তখন গর্ভপাতের বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। তিনি বলেন, চিকিৎসা সংক্রান্ত সনদ ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র দাখিল করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ভুক্তভোগীদের করা ডায়েরি আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরো পড়ুন

অসহায় হাবিব-হালিমা দম্পতির জন্য নতুন ঘর নির্মাণে এগিয়ে এলো ‘পাশে দাঁড়াই’

মাহতাব হাওলাদার, মহিপুর প্রতিনিধি: মানবতার কল্যাণে আরও একটি মহৎ উদ্যোগের সূচনা করতে যাচ্ছে পটুয়াখালী জেলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *