ফরিদ আহমেদ, নেছারাবাদ প্রতিনিধি :
ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজে ঝাড়ুর জুড়ি নেই। গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে শহর এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রয়েছে ঝাড়ুর কদর। আর এ ঝাড়ু বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা। ঝাড়ু তৈরি করে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলেছেন এসব গ্রামের নারীরাও।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মাগুরা, অলংকারকাঠী, পানাউল্লাহপুর, কুনিয়ারী, সংগীতকাঠী গ্রামসহ সুটিয়াকাঠির বিসিক এলাকা, নান্দুহার, জনতা বাজারে ছোট বড় প্রায় ৪০ টির মতো ঝাড়ু কারখানা গড়ে উঠেছে। আর এসব কারখানায় প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ নারী – পুরুষ শ্রমিক কাজ করছেন। এসব কারখানায় ঘুরে দেখা যায়, আপন মনে কাজ করে যাচ্ছেন ঝাড়ু কারিগররা। কেউ ঝাড়ুর শলা ছাটছে, কেউ লাগাচ্ছে ঝাড়ুর হাতল আবার কেউবা ফুলের ঝাড়ু তৈরিতে পার করছেন ব্যস্ত সময়। পুরুষ শ্রমিকেরা উলুফুল ও পাটখড়ির সাথে গুনা দিয়ে বেঁধে সুন্দর মোটা ( আটি) তৈরি করে। পরে ঐ বাঁধাই করা মোটাগুলোতে কস্টেপ অথবা প্লাস্টিকের পিভিসি পাইপ লাগিয়ে নারী শ্রমিকরা বাজারজাত করার উপযোগী করে তোলে।
উপজেলার কুনিয়ারী গ্রামে ঝাড়ু কারখানার শ্রমিক মোঃ নাসির সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, গত এ দশক যাবত ঝাড়ু তৈরি করছেন তিনি। দিনে অন্তত ১২০ – ১৫০ টি ঝাড়ু তৈরি করেন তিনি। এতে প্রায় দৈনিক ৬০০ – ৭৫০ টাকার মতো আয় হয়। এ কাজ করতে ভালোই লাগে বলে জানান তিনি।
অপর এক শ্রমিক মজিবর রহমান বলেন, ‘ফুল, গুনা, পাটকাঠি, কস্টেপ সবকিছু মালিকের। আমরা শুধু ঝাড়ু তৈরি করি। প্রতিটি ঝাড়ু থেকে ৪ টাকা থেকে ৬ টাকা করে পেয়ে থাকি। এতে আগের তুলনায় আমার সংসার ভালো চলে। ‘
নারী শ্রমিক মোসাঃ খাদিজা বলেন, আগে দিনমজুর স্বামীর একার আয়ে সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হতো। এখন আমি কারখানায় ঝাড়ুতে কস্টেপ পেঁচিয়ে দিনে গড়ে ৩০০ টাকার মতো আয় করি। সংসার চালাতে আগের মতো কষ্ট হয় না। ‘
ঝাড়ু কারখানার মালিক মোঃ কবির হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকেরা শুধু হাতে হাতে ঝাড়ুগুলো বাঁধাই করে মজুরি নেন। একজন শ্রমিক কয়েক মিনিটেই একটা ঝাড়ু বাঁধাই করতে পারেন। একটি ফুলঝাড়ু তৈরি করে তারা পান ৪ টাকা থেকে ৫ টাকা। আর পাইকারি মূল্যে প্রতিটি ঝাড়ু ৩০ – ৪০ টাকায় বিক্রি হয়। এরপর খুচরা পর্যায়ে একটা ঝাড়ু ১০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি করেন খুচরা দোকানিরা। ‘
অপর ফুলঝাড়ু ব্যবসায়ী মোঃ মিলনের সাথে কথা হয়। তিনি জানান, একসময় এ ব্যবসার সুদিন থাকলেও এখন ব্যবসায় কোনো শান্তি নেই। ঝাড়ু তৈরির মূল উপাদান উলুফুল পার্বত্য চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি এলাকা থেকে খুব কম দামে কিনে আনা হয়। কিন্তু মহাসড়কে পুলিশ ও বনবিভাগের নানা তালবাহানার ফলে ওই ফুলের দাম কয়েকগুণ বেশি পড়ে যায়। অপরদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। এমতাবস্থায় এখন তাদের এ শিল্প পরিচালনা করতে খুব বেগ পেতে হয়।
এসব ক্ষুদ্র শিল্প টিকিয়ে রাখতে স্বার্থ – সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টির প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।