ফরিদ আহমেদ, নেছারাবাদ প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ৫ নং জলাবাড়ি ইউনিয়নের ‘মাদ্রা ঝালকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রাঙ্গনের পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের মেহগনি গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।
সোমবার ( ১৫ জুন ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গাছ কাটার কাজ চলতে দেখে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মোঃ হুমাউন কবির ও বিদ্যালয়ের শুভাকাঙ্ক্ষী মোঃ মিজানুর রহমান স্থানীয় প্রভাবশালী মোঃ তৈয়ব হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছেন।
অভিযুক্ত মোঃ তৈয়ব হোসেন উপজেলার ৫ নং জলাবাড়ি ইউনিয়নের মাদ্রা গ্রামের বাসিন্দা।
তাদের দাবি, বিদ্যালয়ের নামে দুটি দলিলে মোট ৫৪ শতাংশ জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ভোগদখলে থাকা মাঠের একটি অংশ দখল করে সেখানে বেড়া দিয়েছেন অভিযুক্ত তৈয়ব হোসেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের রোপন করা সাতটি বড় মেহগনি গাছ কেটে নিচ্ছেন তিনি, যার বাজার মূল্য প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সামনে থাকা মাঠের প্রায় অর্ধেক অংশ দখল করে বেড়া দেওয়া হয়েছে। গাছও কেটে নেওয়া হচ্ছে। ভয়ে কেউ প্রতিবাদ পর্যন্ত করছেন না।
স্থানীয় ও বিদ্যালয়ের শুভাকাঙ্ক্ষী মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, “জমিটি বিদ্যালয়ের নামে রয়েছে। তিনি ( তৈয়ব হোসেন) যদি দাবি করেন যে জমি তার তাহলে বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা উচিত। কিন্তু তা না করে প্রভাব খাটিয়ে গাছ কেটে নিচ্ছেন তিনি। “
অভিযোগের বিষয়ে তৈয়ব হোসেন বলেন, ” আমি আদালতের রায়ের মাধ্যমে এই জমি পেয়েছি। তাই আমার জমির গাছ আমি কাটছি।”
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, ” গাছগুলো বিদ্যালয় থেকেই রোপন করা হয়েছিল এবং জমিও বিদ্যালয়ের দখলে ছিল। সেখানে বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারও রয়েছে। যদি তিনি মামলায় জমি পেয়ে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিয়ে জমি মাপঝোপ করে সীমানা নির্ধারণ করা উচিত ছিল। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হবে। “
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, ‘বিষয়টি এইমাত্র শুনলাম। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।