ফরিদ আহমেদ, নেছারাবাদ : পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদের নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার ( ১৬ জুন ) সকাল ১১টায় উপজেলার ফজিলা রহমান মহিলা কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আত্মীয় – স্বজনসহ সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
মিয়ারহাট বন্দর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি মোঃ ইউনুস এ জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজা শেষে মরহুমকে তাঁর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এতে পিরোজপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর এমপি , পিরোজপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলাল এমপি, পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুল ইসলাম কিসমত, পিরোজপুর জেলা জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সভাপতি মোঃ নাসির আহমেদ বাচ্চু, নেছারাবাদ জামায়াতে ইসলামীর আমীর আবুল কালাম আজাদসহ স্থানীয় অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জানাজা নামাজ শুরুর আগে পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের ছেলে রুম্মান হাবিব উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে কথা বলেন। এ সময় তিনি তার মরহুম বাবার জন্য সকলের নিকট দোয়া চান এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মরহুমের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে পিরোজপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলাল বলেন, “ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদ ছিলেন একজন সৎ, নিবেদিতপ্রাণ ও জনমুখী নেতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে নেছারাবাদ তথা বৃহত্তর এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক অপূরনীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে হারালাম। রাজনৈতিক, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান নেছারাবাদবাসীর হৃদয়ে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর বলেন, মরহুম ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদের মৃত্যুতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। এবং আজই তিনি ( প্রধানমন্ত্রী) মরহুমের ছেলে রুম্মানের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলবেন। তিনি আরও বলেন, ‘ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদ শুধু নেছারাবাদের জননন্দিত নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন পিরোজপুর তথা পুরো এলাকার গণমানুষের নেতা। আমরা সবাই তাঁর পরিবারের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।’
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরের দিকে ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদের মরদেহ ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁর নিজ বাড়িতে আনা হলে স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মুসলিম, হিন্দুসহ ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের শত শত নারী – পুরুষ, যুবক ও প্রবীণ তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে আসেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যার পর ভারতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওয়াহিদুজ্জামান ওয়াহিদ ( ৫৮) মৃত্যু বরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।