নিজস্ব প্রতিবেদক : যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর বরিশাল বিভাগীয় ক্রিকেট দল গঠনকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বয়স যাচাই, রেজিস্ট্রেশন এবং উপজেলা-জেলা পর্যায়ের অংশগ্রহণের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ না করে কয়েকজন খেলোয়াড়কে বিভাগীয় দলের জন্য বিবেচনায় নেওয়ার অভিযোগে খেলোয়াড় ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান কিশোর-কিশোরীদের খুঁজে বের করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলার একটি সরকারি উদ্যোগ। কর্মসূচির আওতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, বরিশাল বিভাগীয় ক্রিকেট দল গঠনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা পুরোপুরি অনুসরণ করা হচ্ছে না। কয়েকজন খেলোয়াড় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ না করলেও তাদের বিভাগীয় দলের সম্ভাব্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করা কিছু খেলোয়াড়কেও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিভাগের বিভিন্ন জেলার একাধিক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যারা নিয়ম মেনে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেছে এবং দীর্ঘদিন ধরে অনুশীলন ও প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে, তাদের উপেক্ষা করে অন্যদের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত মেধাবী ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে যথাযথ রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন না করেই তাদের বিভাগীয় দলের বিবেচনায় রাখার অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, বয়সভিত্তিক বিভিন্ন ক্যাম্প ও বাছাই কার্যক্রমে স্বজনপ্রীতির কারণে অনেক যোগ্য খেলোয়াড় সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে তাদের ভবিষ্যৎ ক্রীড়া ক্যারিয়ারও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাদের দাবি, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মতো একটি জাতীয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিয়মের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় প্রকৃত প্রতিভা বিকাশের পরিবর্তে হতাশা ও বৈষম্যের পরিবেশ তৈরি হবে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরিশাল জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, “এখনও চূড়ান্ত দল গঠন করা হয়নি। বাছাই কমিটি আগামী ২৩ জুন ১৪ জনের একটি তালিকা জমা দেবে। এরপর তালিকাটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে। বয়স, রেজিস্ট্রেশন ও অংশগ্রহণ সংক্রান্ত সব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ নেই।”
এ ঘটনায় খেলোয়াড় ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও নিয়মতান্ত্রিক বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা ভবিষ্যৎ ক্রীড়াবিদ তৈরির লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে পারে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।