বুধবার, জুলাই ২২, ২০২৬

ঝুঁকিতে কুয়াকাটার শহররক্ষা বাঁধ, দেবে গেছে অসংখ্য কংক্রিটের ব্লক

মাহতাব হাওলাদার, মহিপুর প্রতিনিধি:
উত্তাল সাগরের অব্যাহত ঢেউয়ের আঘাতে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা শহররক্ষা বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের নদীমুখী ঢালের (স্লোপ) সুরক্ষায় স্থাপিত অসংখ্য কংক্রিটের ব্লক দেবে গেছে এবং অনেক জায়গায় স্থানচ্যুত হয়েছে। এতে মূল বেড়িবাঁধটি এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হলে জোয়ার-ভাটা ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টের পশ্চিম পাশে মিরাবাড়ি থেকে মাঝিবাড়ি পর্যন্ত শহররক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশে কংক্রিটের ব্লক দেবে গেছে। কোথাও কোথাও ব্লক স্থানচ্যুত হয়ে নিচের বালু ও মাটি সরে যাওয়ায় বড় বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। এতে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কুয়াকাটা পৌর এলাকাকে জলোচ্ছ্বাস ও উত্তাল ঢেউয়ের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় নদীমুখী অংশে এসব কংক্রিটের ব্লক স্থাপন করা হয়। বর্তমানে অন্তত ৫০০ মিটার এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ব্লক দেবে যাওয়া ও সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত ১৫ দিনের টানা বৃষ্টি, মৌসুমি বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে জোয়ারের সময় প্রবল ঢেউ সরাসরি বাঁধে আঘাত হানছে। ফলে ব্লকের নিচের বালু ও মাটি সরে গিয়ে অনেক ব্লক দেবে গেছে এবং কিছু ব্লক স্থানচ্যুত হয়েছে।
স্থানীয় জেলে ছোবাহান বলেন, “পাঁচ-ছয় বছর আগে ব্লকগুলো বসানো হয়েছিল। তখন অল্প জায়গায় ঢেউ লাগত। এখন প্রায় পুরো বাঁধজুড়েই ঢেউ আঘাত করছে। অনেক ব্লক সরে গেছে, আবার কিছু ব্লক বালুর নিচে ঢুকে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে নিচ দিয়ে সুরঙ্গ তৈরি হয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।”
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান বলেন, “বাঁধের বর্তমান অবস্থা আমাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। দ্রুত সংস্কার না হলে কুয়াকাটা শহর ও পর্যটনশিল্প হুমকির মুখে পড়বে।”
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম. এ. মোতালেব শরীফ বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত ব্লকগুলো দ্রুত পুনঃস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি কুয়াকাটা সৈকত ও শহর রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রতিরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা জরুরি।”
পর্যটক অভি রহমান বলেন, “দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটাকে রক্ষায় সরকারের দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত অংশ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহআলম বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ও দেবে যাওয়া ব্লকসংলগ্ন প্রায় ৩৫০ মিটার এলাকায় জিওটিউব স্থাপনের কাজ শুরু হবে। এতে ঢেউয়ের সরাসরি আঘাত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশকে সাময়িক সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণেরও প্রয়োজন রয়েছে।

আরো পড়ুন

বরিশালে নাগরিক টেলিভিশনের দায়িত্ত্বে সাংবাদিক শাহীন হাসান, বিভিন্ন মহলের শুভেচ্ছা 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের পেশাদার সাংবাদিক শাহীন হাসান বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন নাগরিক টিভির বরিশাল প্রতিনিধি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *