বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদি ইউনিয়নের হলতা বাজার এলাকায় পরকীয়া ও গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করার প্রতিবাদ করায় এক গৃহবধূকে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন চালিয়ে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদের জামাইসহ তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
গত ৮ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে শ্বশুরবাড়িতে এই নির্মম নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। এতে আহত গৃহবধূ মিম বর্তমানে বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্যাতন শিকার গৃহবধূ মিম বরিশাল নগরীর কাউনিয়ার বিসিক রোড এলাকায় স্বামী মাহবুবের সাথে ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত ১ আগস্ট তার স্বামী মাহবুব বরিশাল শায়েস্তাবাদের তালতলী সফির গ্যারেজ সংলগ্ন এলাকা থেকে ‘অথৈ’ নামের এক তরুণীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। স্বামী পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে খুঁজতে ও বিষয়টি জানাতে মিম বাকেরগঞ্জের চরাদি ইউনিয়নের হলতা এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর ননদের জামাই স্বপন তাকে স্বামী মাহবুবকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। মিম এতে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রতিবাদ করলে একপর্যায়ে ননদের জামাই স্বপন, শ্বশুর হেলাল, শাশুড়ি সালেহা বেগমসহ বেশ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা মীমকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘর থেকে বের করে দেয়।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ভুক্তভোগী গৃহবধূ মিম। তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১০ বছরের দাম্পত্য জীবনে আমাদের দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মাহবুব অন্য একটি মেয়ের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। তিনবার সেই মেয়েকে বিয়ে করার পর টাকা-পয়সা দিয়ে আমি আমার বাবা মার সহযোগিতায় প্রতিবারই বিচ্ছেদ করিয়ে তাকে ফিরিয়ে এনেছি। এবারও ১ তারিখ সকালে সব টাকা-পয়সা ও জিনিসপত্র নিয়ে ওই মেয়েটির সাথে পালিয়ে গেছে সে। ছোট দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনার কথা চিন্তা করে শ্বশুরবাড়িতে বিচার চাইতে গেলে তারা উল্টো আমাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। আমার সন্তানদের পড়াশোনা ও ভরণপোষণ বন্ধ হয়ে গেছে। আমি আইনের আশ্রয় নিয়ে এই অন্যায় ও নির্যাতনের বিচার চাই।”
নির্যাতিতা মিমের বোন তন্নী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার বোন মিম গত ১১ বছর ধরে মাহবুবের সাথে সংসার করছে। দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব অত্যাচার সহ্য করেছে। আমার মা-বাবা ধার-দেনা করে বিভিন্ন সময় মাহবুবের সংসার টিকিয়ে রাখার জন্য টাকা-পয়সা দিয়েছে। কিন্তু মাহবুব বারবার অন্য মেয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। এবারও মিম শ্বশুরবাড়িতে পাওনা ও বিচার চাইতে গেলে তারা মিমকে নির্মমভাবে পিটিয়ে বের করে দেয়। আমরা এই অত্যাচারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ঘটনার সত্যতা প্রকাশ করে এলাকার প্রতিবেশী নুরুন্নাহার বেগম বলেন, “মিমের বিয়ের পর থেকেই আমরা দেখে আসছি যে মিম রিকশা চালানো বা কষ্ট করে বাচ্চাদের লালন-পালন ও সংসার চালাইছে। কিন্তু মাহবুব বারবার অন্য মেয়ের পেছনে টাকা-পয়সা নষ্ট করে পালিয়ে গেছে। প্রতিবার মিমের বাপের বাড়ির লোক টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে আনছে। এবার মিম যখন শ্বশুরবাড়িতে পাওনা জিনিসপত্র আর বাচ্চাদের খোরপোষের দাবি জানাতে গেল, তখন শাশুড়ি, শ্বশুর আর ননদের জামাই মিলে মেয়েটাকে লাঠিসোটা ও কিল-ঘুষি মেরে মারাত্মকভাবে আহত করে তাড়িয়ে দিল। একজন নিরীহ নারীর ওপর এই ধরনের অত্যাচার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত মাহবুবের মোবাইল নাম্বারে কল দেওয়া হলে তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।