রবিবার, অক্টোবর ৪, ২০২৬

বৃষ্টির সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকট, বরিশালের বৃক্ষমেলায় বিক্রি তলানিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক : গাছের চারা কিনতে ক্রেতা আসছেন, ঘুরছেন, ছবি তুলছেন—তবে অধিকাংশই ফিরছেন খালি হাতে। বৈরী আবহাওয়া, টানা বৃষ্টি আর বিদ্যুৎ সংকটে বরিশালের ১৫ দিনব্যাপী জেলা বৃক্ষমেলায় এবার প্রত্যাশিত বিক্রি হচ্ছে না। এতে চরম হতাশায় পড়েছেন মেলায় অংশ নেওয়া নার্সারি মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, ১৬টি স্টলের বেশিরভাগই অনেকটা ক্রেতাশূন্য। কোথাও কোথাও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি থাকলেও চারা কেনার আগ্রহ তুলনামূলক কম। ফলে দিনভর স্টলে বসে অলস সময় কাটাতে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের।

স্বরূপকাঠি থেকে মেলায় অংশ নেওয়া ‘মা মণি নার্সারি’র মালিক রহিম বলেন, বৃক্ষপ্রেমীরা মেলায় এসে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ দেখছেন, ছবি তুলছেন। কিন্তু সে অনুযায়ী চারা কিনছেন না। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

২০ বছর ধরে নার্সারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ‘তরুলতা নার্সারি’র নান্নু মিয়া বলেন, এবারের মেলার বিক্রি দেখে তিনি হতবাক। মেলায় স্টল নেওয়া, কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে গিয়ে এবার বড় ধরনের লোকসান গুনতে হতে পারে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, শুধু বৃষ্টি নয়, বিদ্যুৎ সংকটও মেলার বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সাধারণত বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মেলায় ক্রেতাদের আনাগোনা ও কেনাবেচা বেশি হয়। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাত ৯টার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ থাকায় সন্ধ্যার পর মেলার পরিবেশ অন্ধকার হয়ে যায়। এর সঙ্গে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকায় অনেকটা অস্বস্তিকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে হচ্ছে।

মেলায় এবার দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ চারা নিয়ে এসেছেন নার্সারি ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে রয়েছে ছবেদা, ভিয়েতনামি মাল্টা, রাম্বুটান, অ্যাভোকাডো, পিংক কাঁঠালসহ শতাধিক প্রজাতির চারা। পরিবেশ ও বৃক্ষপ্রেমীদের আকৃষ্ট করতে নানা ধরনের বিরল ও উচ্চফলনশীল গাছের চারাও রাখা হয়েছে স্টলগুলোতে।

ব্যবসায়ীরা জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন একটি স্টলে গড়ে প্রায় ৫ হাজার টাকার চারা বিক্রি হলেও এবারের মেলায় সেই বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে। বৃষ্টি ও বিদ্যুৎ সংকট অব্যাহত থাকলে মেলা শেষে প্রত্যাশিত বিক্রি তো দূরের কথা, বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়াই কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে আগামী ২৩ আগস্ট ১৫ দিনব্যাপী এ বৃক্ষমেলা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের দুরবস্থা বিবেচনায় মেলার সময় বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বরিশাল বিভাগীয় বন বিভাগ জানিয়েছে, মেলার শেষদিকে বিক্রির পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সময় বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, আপাতত ২৩ আগস্ট পর্যন্তই মেলা চলবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হচ্ছে। মেলায় বিক্রি বাড়াতে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, মেলার শেষ কয়েক দিনে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং দর্শনার্থীদের মধ্যে গাছ কেনার আগ্রহ বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে।

আরো পড়ুন

‎শ্রমিকের সমস্যা যেখানে, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সেখানে: আতিকুর রহমান

‎জাকির ফরাজী : ‎বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, ‘অন্যায় হবে যেখানে, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *