সোমবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

কাশিপুরে মারধর-চাঁদাবাজির মামলায় জামিনে এসে বাদীকে হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশাল নগরীর কাশিপুর এলাকায় হামলা, চাঁদা দাবি, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে দুই সহোদর নুরুল আমিন বাবুল ও রফিকুল ইসলাম শাহীনের বিরুদ্ধে। তারা উভয়ে মরহুম ছাবের আহমেদের ছেলে।

সাম্প্রতিক একটি চাঁদাবাজি ও মারধরের মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গত ৪ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) নুরুল আমিন বাবুল ও রফিকুল ইসলাম শাহীনকে গ্রেপ্তার করে বিমানবন্দর থানা পুলিশ।

অভিযোগকারী আফসানা আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী। তিনি কাশিপুর বাজারসংলগ্ন ওয়াজেদিয়া জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম অলিউদ্দিন আহমেদের মেয়ে। আফসানার দাবি, বাবার মৃত্যুর পর থেকেই চাচা-ফুফুদের সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তিনি, তার মা ও ভাই-বোন বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন।

আফসানা জানান, একপর্যায়ে তার ও পরিবারের সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে রোয়েদাদ তৈরির চেষ্টা করা হলে তিনি মামলা করেন। ওই মামলায় (মোকদ্দমা নং-৩/১৫) তিনি রায় পান বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে তাদের ভোগদখলীয় সম্পত্তির রেকর্ড জালিয়াতির অভিযোগে বরিশাল দিয়ারা সেটেলমেন্টেও মামলা করা হয়। সেখানেও তিনি রায় পেয়েছেন বলে জানান।

তবে আইনি প্রতিকার পাওয়ার পরও হামলা, মিথ্যা মামলা ও অবৈধভাবে চাঁদা দাবির মাধ্যমে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আফসানার। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ৬ মে নুরুল আমিন বাবুল ও রফিকুল ইসলাম শাহীনের লোকজন তার ওপর চাঁদা দাবিতে হামলা চালায়। এ ঘটনায় দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সিআর ৯৩/২৩( বিমানবন্দর) মামলা দায়ের করা হয়।

আফসানার দাবি, মামলাটির তদন্তে ডিবির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে আসামিরা জামিনে বের হয়ে পুনরায় তাদের ওপর চড়াও হন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগে রফিকুল ইসলাম শাহীনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় জিআর ৪১/২৫ মামলা দায়ের করা হয় বলে জানান আফসানা। ওই মামলায় রফিকুল ইসলাম শাহীন মুচলেকা দিয়ে জামিনে রয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে ভোগদখলীয় জমিতে অবৈধ দখলের চেষ্টার অভিযোগে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় এমপি ৯৭৪/২৬ নম্বর মামলা করা হয়। পরিবারটির দাবি, ওই মামলায় আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু সেই আদেশ অমান্য করার অভিযোগে দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারায় পুলিশ আদালতকে অবহিত করেছে।

পরিবারটির আরও অভিযোগ, নুরুল আমিন বাবুলসহ কয়েকজন তাদের ভোগদখলীয় জমির ধান চুরির চেষ্টা, জমির আইল কেটে দেওয়া চেষ্টা, হামলা এবং রামদা প্রদর্শনের চেষ্টা করেছেন। এসব ঘটনায় কলাপাড়া থানায় একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে বলেও জানায় পরিবারটি।

আফসানা বলেন, “আইনের দ্বারস্থ হবার পরও আমাদেরকে প্রাননাশের হুমকি প্রদান করা হচ্ছে যাহাতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদের ভোগদখলীয় জমিতে আদালতের আদেশ কার্যকর রাখা এবং হামলা, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগগুলো সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

অন্যদিকে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন রফিকুল ইসলাম শাহীন। তিনি বলেন, “এই মেয়ের সকল অভিযোগ মিথ্যা ভিত্তিহীন। আপনারা এসে খোঁজ খবর নিয়ে দেখেন। এই মেয়েকে আমার ভাইয়ের মেয়ে বলতে ঘৃণা লাগে।”

পরিবারটির দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভোগদখলীয় জমিতে আদালতের আদেশ কার্যকর রাখা এবং হামলা, চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরো পড়ুন

বরিশাল সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ পরিদর্শনে এ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ্যাড. মুয়াযযম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *