শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

বরগুনার বিষখালী নদীর মোহনায় ইটভাটা, বদলে যাচ্ছে জীববৈচিত্র ও নদীর গতিপথ

মইনুল আবেদিন খান, বরগুনা প্রতিনিধি:  বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের বাইনচটকি এলাকায় বিষখালী নদীর তীর ও চর দখল করে ইটভাটার পরিধি বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। নদীর চর ভরাট, তীর কেটে মাটি উত্তোলন ও ইটভাটার স্থাপনা সম্প্রসারণের কারণে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নাব্যতা সংকট, নদীভাঙন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষখালী নদীতে নতুন চর জেগে উঠলেই একটি শ্রেণি তা দখলের চেষ্টা করে। বাইনচটকি থেকে কালীরচর পর্যন্ত নদীতীরবর্তী এলাকায় একাধিক ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এসব ভাটার পরিধি বাড়াতে কোথাও চর ভরাট, কোথাও নদীর তীর কেটে মাটি উত্তোলন এবং কোথাও নদীর জায়গা স্থাপনার আওতায় নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীতীর থেকে উত্তোলন করা মাটি ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে নদীর তীর দুর্বল হয়ে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও ঝুঁকিতে পড়ছে। বর্ষা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা জলোচ্ছ্বাসের সময় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর বরগুনা নদীবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বাইনচটকি থেকে কালীরচর পর্যন্ত এলাকায় একাধিক ইটভাটা রয়েছে। নদীতে চর জেগে ওঠার পর তা দখলের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে বিষখালীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক গতিপথ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাইনচটকি এলাকায় নদীতীর থেকে মাটি কাটার কারণে বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে। নদীতীর কেটে মাটি উত্তোলন অব্যাহত থাকলে বাঁধের পাড় দুর্বল হয়ে বড় ধরনের দুর্যোগের সময় বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
তবে নদী বা সরকারি জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাইনচটকি গ্রামের নদীতীরবর্তী এলাকায় গড়ে ওঠা শায়লা এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল রাজ্জাক কিসলু। তিনি বলেন, ‘যে জমিতে ব্রিক ফিল্ড স্থাপন করা হয়েছে, তা আমাদের রেকর্ডীয় সম্পত্তি। আমরা কোনো ধরনের খাসজমি ইটভাটার কাজে ব্যবহার করছি না।’
বরগুনার পরিবেশ আন্দোলনকর্মী মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘বিষখালী নদী উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। নদীর তীর ও চর দখল, ভরাট কিংবা তীর কেটে মাটি উত্তোলনের কারণে স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। কোথাও পানিপ্রবাহ কমে পলি জমে নাব্যতা সংকট তৈরি হবে, আবার কোথাও স্রোতের চাপ বেড়ে নদীভাঙন তীব্র হতে পারে। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও হুমকিতে পড়তে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইটভাটা পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই পরিবেশ ও নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ রক্ষা করে আইন মেনে করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বৈধ রেকর্ডীয় জমিতে ইটভাটা পরিচালনা করলে প্রশাসনের নিরপেক্ষ জরিপ ও নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নদীর সীমানা নির্ধারণ করে নদী বা সরকারি জমি দখল হয়ে থাকলে তা উদ্ধার করতে হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নদীর সীমানা জরিপ, অবৈধ দখল ও ভরাট উচ্ছেদ, নদীতীর থেকে মাটি কাটা বন্ধ এবং ইটভাটাগুলোর জমির মালিকানা, পরিবেশগত ছাড়পত্রসহ সব অনুমোদন যাচাই করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে দীর্ঘদিন হস্তক্ষেপ চলতে থাকলে এর প্রভাব শুধু বাইনচটকিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বদলে যেতে পারে বিষখালীর গতিপথ, বাড়তে পারে ভাঙন ও নাব্যতা সংকট। তাই নদী রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আরো পড়ুন

এমপি সান্টুর সাথে উজিরপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সৌজন্য সাক্ষাত

উজিরপুর প্রতিনিধি : বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *