মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

মিলিয়ন ফলোয়ারের মাইলফলকে শিল্পী ওবায়দুল্লাহ তারেক

নিজস্ব প্রতিবেদক : সংগীত, সাহিত্য, শিক্ষা, সাংবাদিকতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ওবায়দুল্লাহ তারেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মিলিয়ন (১০ লাখ) ফলোয়ারের মাইলফলক অর্জন করেছেন।

দীর্ঘ সাংস্কৃতিক পথচলায় তাঁর গান, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড, সাংস্কৃতিক ভাবনা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি শ্রোতা ও দর্শকদের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১০ লাখ মানুষের অনুসরণ সেই জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতারই একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওবায়দুল্লাহ তারেকের সাংস্কৃতিক পথচলার শুরু শৈশব থেকেই। পাবনা জেলার আতাইকুলা থানার মধুপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ছোটবেলা থেকেই সংগীত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে ইসলামী সংগীতচর্চার পাশাপাশি তিনি গীতিকার, সুরকার, শিক্ষক, সাংবাদিক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।

তাঁর কণ্ঠে পরিবেশিত তুমি আসমানে থাকো প্রভু, আমি জমিনে’, ‘বাবা তুমি কেমন আছো ছোট্ট মাটির ঘরে’, ‘মাওলা তোমারও লাগিয়া কাঁদে আমার প্রাণ’, ‘বাজান আমার ঔষধ শেষ’, ‘দে দে পাল তুলে দে’, ‘নির্ঘুম এ রাত জেগে আছে চাঁদ’**সহ বেশ কিছু গান শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

সংগীতের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সংগীতভিত্তিক রিয়েলিটি শোতে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২ সাল থেকে এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন তিনি। বিভিন্ন টেলিভিশনের টাইটেল সং-এর গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও কাজ করেছেন। বরিশাল থেকে প্রকাশিত জনপ্রিয় মুক্তবুলি ম্যাগাজিনের থিম সংয়ের সুরকার ও শিল্পী ওবায়দুল্লাহ তারেক।

শুধু শিল্পী হিসেবে নয়, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। তিনি সৃজন সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। পাশাপাশি চন্দ্রালোক মিডিয়া কর্পোরেশন, Thanks TV News, Thanks TV, ক্লাসিক ওয়ার্ল্ড সঙ্গীত একাডেমি এবং ইলহাম ইসলামিক স্কুল প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

শিক্ষাজীবনেও রয়েছে তাঁর বিস্তৃত অর্জন। সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ, পাবনা থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর সাংবাদিকতায় উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক হিসেবে গবেষণাকর্মে নিয়োজিত রয়েছেন।

এক মিলিয়ন ফলোয়ারের অর্জন সম্পর্কে ওবায়দুল্লাহ তারেক বলেন, “একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মানুষের ভালোবাসা। ১০ লাখ মানুষের এই ভালোবাসা আমার জন্য একই সঙ্গে আনন্দের ও দায়িত্বের। আমি চাই, এই প্ল্যাটফর্মকে শুধু বিনোদনের জন্য নয়—সুস্থ সংস্কৃতি, নৈতিকতা, শিক্ষা ও ইতিবাচক বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে।”

তিনি আরও বলেন, “এই অর্জন আমার একার নয়। যাঁরা আমার গান শুনেছেন, আমার কাজকে ভালোবেসেছেন, পাশে থেকেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত হয়েছেন—এই মাইলফলকের অংশীদার তাঁরাই।”

সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বর্তমান সময়ে একজন শিল্পীর জন্য ১০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানো একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। বিশেষ করে সংগীত, সংস্কৃতি ও শিক্ষামূলক বিষয়কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের কাজের মাধ্যমে এই ধরনের অনুসারী তৈরি হওয়া তাঁর প্রতি মানুষের আগ্রহ ও গ্রহণযোগ্যতার ইঙ্গিত বহন করে।

দেশের সীমানা পেরিয়েও ওবায়দুল্লাহ তারেকের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কাতার, সৌদি আরব ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি।

এক মিলিয়ন ফলোয়ারের মাইলফলককে নতুন একটি অধ্যায় হিসেবে দেখছেন ওবায়দুল্লাহ তারেক। তাঁর প্রত্যাশা—আগামী দিনে সংগীত, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে আরও বৃহৎ পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে সুস্থ ও ইতিবাচক সাংস্কৃতিক চর্চা ছড়িয়ে দেওয়া।

১০ লাখ ফলোয়ার তাই তাঁর কাছে শুধু একটি সংখ্যা নয়—এটি মানুষের ভালোবাসা, আস্থা এবং ভবিষ্যতের প্রতি আরও বড় দায়িত্বের প্রতীক।

আরো পড়ুন

আমরা জাতীয় পার্টির মতো পোষা বিরোধী দল হবো না -সারজিস আলম

‎পিরোজপুর : জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, বিএনপির আমাদেরকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *