ঝালকাঠি প্রতিনিধি ঝালকাঠির রাজাপুরে স্কুলের অনুকূলে দান করা জমির অতিরিক্ত ১৯ শতাংশ সম্পত্তি বিদ্যালয়ের নামে ভুলভাবে রেকর্ড করার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠি জেলা আদালতে স্থানীয় বাসিন্দা মো. নিয়ামুল আহসান ও মো. সরোয়ার হোসেন তালুকদার মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি ১০ আগস্ট প্রকাশ্যে আসে। এতে রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সদস্য সচিব মো. জাহিদুল ইসলামকে ১ নম্বর এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে ২ নম্বর বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, রাজাপুর মৌজার সিএস ১৪৩ নম্বর খতিয়ানের ২১৯৬ নম্বর দাগে মোট ৩৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন বাদীদের পূর্বপুরুষরা। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় তারা ওই জমি থেকে ২০ শতাংশ স্কুলের অনুকূলে দান করেন। বাকি ১৯ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে বাদীরা ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়াটিয়ার মাধ্যমে ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাদীদের অভিযোগ, দান করা ২০ শতাংশের বাইরে অবশিষ্ট ১৯ শতাংশ জমিও আরএস, এসএ ও বিএস জরিপে ভুলভাবে বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ড করা হয়। সম্প্রতি ওই রেকর্ডের ভিত্তিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জমিটির মালিকানা দাবি করলে বিরোধের সৃষ্টি হয়। রেকর্ড সংশোধনের উদ্যোগ না নেওয়ায় তারা আদালতের শরণাপন্ন হন।
মামলায় বাদীদের ওয়ারিশি স্বত্ব ঘোষণার পাশাপাশি বিবাদীদের প্রতি কারণ দর্শানোর আদেশ চাওয়া হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বাদী মো. সরোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, ‘স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় পূর্বপুরুষরা যে ২০ শতাংশ জমি দান করেছেন, সেই জমির ওপর আমাদের কোনো দাবি নেই। আমাদের দাবি শুধু অবশিষ্ট ১৯ শতাংশ জমি নিয়ে। ওই জমির রেকর্ড সংশোধন করে আমাদের নামে করার দাবি জানিয়েছি।’
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলার বিষয়ে আমার জানা নেই। মামলায় উল্লেখিত দাবির বিষয়ে তাদের কাছে কোনো ডকুমেন্ট থাকলে তা নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।