বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অবকাঠামো সংকট

ইমা মাহমুদ শোভা : প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পরও ১০ সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) অবকাঠামোগত সংকট চরমে। আবাসিক হল, শ্রেণিকক্ষ, একাডেমিক ভবন ও আধুনিক ল্যাবরেটরির সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম।

তবে দীর্ঘদিনের এ সংকট কাটাতে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ধাপের উন্নয়ন পরিকল্পনা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশা, হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আগামী ৮ থেকে ৯ বছরে বদলে যাবে ববি ক্যাম্পাসের চিত্র।

২০১১ সালে বরিশাল সদর উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম ধাপের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০১৭ সালে। ওই প্রকল্পে দুটি একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, চারটি আবাসিক হল, উপাচার্যের বাসভবন, দুটি ডরমিটরি, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, টিএসসি, মসজিদ ও ৩৬টি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়। তবে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে ১০ সহস্রাধিক হলেও সে অনুযায়ী অবকাঠামো বাড়েনি।

ববি প্রতিষ্ঠার সময় ১৭টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সক্ষমতা বিবেচনায় অবকাঠামো গড়ে তোলা হলেও বর্তমানে চলছে ২৫টি বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম। দুটি একাডেমিক ভবনে এসব বিভাগের জন্য রয়েছে মাত্র ৩১টি শ্রেণিকক্ষ। অনেক বিভাগকে একই কক্ষ ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হয়। ফলে ক্লাসের জন্য অপেক্ষা, নির্ধারিত ক্লাস বাতিলসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। পর্যাপ্ত ও আধুনিক ল্যাবরেটরির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবহারিক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম।

এসব সংকট সমাধানে দীর্ঘদিন ধরে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। জুলাই অভ্যুত্থানের পর এ দাবি আরও জোরালো হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্পের সমন্বিত ফিজিবিলিটি স্টাডির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসাবে দায়িত্ব পান কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক ড. হাফিজ আশরাফুল হক। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শেলটেক কনসালটেন্ট (প্রাইভেট) লিমিটেডের সঙ্গে ফিজিবিলিটি স্টাডির চুক্তি স্বাক্ষর করেন তিনি। এরই মধ্যে সমীক্ষার কাজ শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফিজিবিলিটি স্টাডির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হবে। এতে নতুন একাডেমিক ও বিজ্ঞান ভবন, আধুনিক ল্যাবরেটরি, ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক হল ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনার প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি মাটি পরীক্ষা, ডিজিটাল টপোগ্রাফিক সার্ভে, পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) ও জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর মাস্টারপ্ল্যানের ভিত্তিতে তৈরি হবে ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি)। সেটি ইউজিসি, শিক্ষা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে প্রকল্পটি ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে একনেকে উপস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।

একনেকে অনুমোদনের পর নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, ২০৩২-৩৩ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০৩৪ সালের দিকে প্রকল্পের আওতাভুক্ত অবকাঠামোর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম দৃশ্যমান হওয়ার আশা করা হচ্ছে। জানা গেছে, দ্বিতীয় ধাপের উন্নয়ন প্রকল্পে হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, ‘দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন শেষে তা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দ্বিতীয় পর্যায়ের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ববির কার্যক্রমের গতি আরও বাড়বে।’

ইমা মাহমুদ শোভা,
শিক্ষার্থী, তৃতীয় বর্ষ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

আরো পড়ুন

বরিশালে বাসের ধাক্কায় শিক্ষিকার মৃত্যু, শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বরিশালের বাবুগঞ্জে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় রেহানা বেগম (৪৫) নামে সহকারী শিক্ষিকা নিহত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *