মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

বরিশালে শিক্ষা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন,সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল ও ছাত্র ফেডারেশনের নেতা—কর্মীরা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ওই প্রকৌশলীকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে অধিদপ্তরের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে কর্মসূচির একপর্যায়ে বিএনপিপন্থী একদল ঠিকাদার হামলা চালিয়ে মানববন্ধন পণ্ড করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।এবং সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেন নিএনপি এক ঠিকাদার।পরে তোপের মুখে স্থান ত্যাগ করে চলে যান সুবিধা ভোগী এই ঠিকাদার বিএনপি নেতা।

মানববন্ধনে উপস্থিত জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাইদুল ইসলাম সাকিবের অভিযোগ, শহিদুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ৯ নম্বর সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের লোকজনকে পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন। সম্প্রতি ১০ নম্বর ওয়ার্ডে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত মিছিলেও’ তিনি অর্থায়ন করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী অধিকাংশ ঠিকাদারি কাজ মোমেন সিকদারকে দিয়ে করান বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের দাবি, শহিদুল ইসলাম সব ঠিকাদারি কাজে কমিশন নেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে বসে কমিশন ভাগবাটোয়ারা করেন। একাধিকবার সতর্ক করার পরও তিনি বেপরোয়া হয়ে নিজস্ব বলয়ের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে সহায়তা করছেন।

ছাত্রসংগঠনগুলোর অভিযোগ, নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুসারী যুবদলের সাবেক নির্বাহী সদস্য মোমেন সিকদার, ছাত্রদল নেতা সানমুন, প্রকৌশলীর গাড়িচালক ইব্রাহিম ও অফিস সহকারী তন্ময় এসে মানববন্ধনের ব্যানার কেড়ে নেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

এ ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মানববন্ধন চলাকালে বাধা দিয়ে মোমেন সিকদার চিৎকার করে বলছেন, ‘এই ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করবেন, চাঁদাবাজি করবেন, সেটা হবে না।’ পরে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি দেখে তিনি ও তাঁর অনুসারীরা সেখান থেকে সরে যান।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার ও যুবদল নেতা মোমেন সিকদার জানান, তিনি শিক্ষা প্রকৌশল দপ্তরে যাওয়ার সময় ব্যানার নিয়ে কিছু লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। ব্যানারে নির্বাহী প্রকৌশলীর ছবি দেখে তিনি কেবল কারণ জানতে চেয়েছেন, মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।

এদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেক্সট করে পরিচয় জানতে চান। তবে মেসেজে পরিচয় পাঠানোর পর তিনি আর ফোন ধরেননি। এর আগে সাংবাদিকদের তিনি জানান, তাঁর কার্যালয়ের সামনে কারা মানববন্ধন করেছেন, তা তিনি জানেন না এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

আরো পড়ুন

নেছারাবাদে ‎সাংবাদিকদের সাথে নবাগত ইউএনও’র মতবিনিময় সভা

ফরিদ আহমেদ, নেছারাবাদ প্রতিনিধি : ‎পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার স্বরূপকাঠী প্রেসক্লাবের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *