ফরিদ আহমেদ, নেছারাবাদ প্রতিনিধি : পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল দিয়ে অবাধে মাছ শিকার করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র ফাঁসের এসব জালে মাছের পাশাপাশি পোনা, মা মাছ, সাপ, ব্যাঙ, কাঁকড়া, শামুকসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। এতে দেশীয় মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের দোকানগুলোয় প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জাল বিক্রি হলেও মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান দেখা যাচ্ছে না। ফলে বিক্রেতারা কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই চায়না দুয়ারি জাল বিক্রি করছেন। তারা বলছেন, শুধু জেলেদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে এ জালের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব নয়। জালের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
জানা যায়, নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি রিং বিশিষ্ট জাল সাধারণত এক থেকে দেড় ফুট উচ্চতা ও ৬০ থেকে ৯০ ফুট দৈর্ঘ্যের এবং ক্ষুদ্র ফাঁস বিশিষ্ট হয়। এটি লোহার রডের রিং দিয়ে খোপ আকারে বাক্স তৈরি করে চারপাশ সূক্ষ্ম জাল দিয়ে ঘেরাও করে তৈরি। এ জালে অসংখ্য প্রবেশমুখ থাকায় দুদিক থেকেই মাছ ঢুকতে পারে। জালের ফাঁস ছোট হওয়ায় ছোট কোনো মাছই এর থেকে রেহাই পায় না।
১৯৫০ সালের মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী চায়না দুয়ারি জাল দেশে নিষিদ্ধ। তবু চলতি মৌসুমে নেছারাবাদের নদী, খাল ও বিভিন্ন জলাশয়ে এই জালের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। যদিও প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে জাল জব্দ করে, তবে নিয়মিত নজরদারির অভাবে এর ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার জগন্নাথকাঠি ও মিয়ারহাট বাজারের বিভিন্ন সুতা ও জালের দোকানে চায়না দুয়ারি জাল বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় অসাধু জেলেরা এসব বাজার থেকে জাল কিনে খাল-বিল ও জলাশয়ে ব্যবহার করছেন। এতে মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন জলজ প্রাণীও আটকা পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মিয়ারহাটের মাছ ব্যবসায়ী মো. মহিবুল্লাহ বলেন, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ না হলে স্থানীয় জলাশয়গুলো মাছশূন্য হয়ে পড়বে। এসব জালে শুধু মাছ নয়, মারা পড়ছে বিভিন্ন জলজ প্রাণীও। এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দা সালাম হাওলাদার বলেন, নিষিদ্ধ জালের দৌরাত্ম্যের কারণে বাজারে দেশীয় মাছ পাওয়া যায় না বললেই চলে। এখনই যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে দেশীয় অনেক প্রজাতির মাছ চিরতরে হারিয়ে যাবে।
নেছারাবাদ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফারিয়া কনক বলেন, চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধে বাজারগুলোতে কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়েও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরপরও কোথাও জাল বিক্রির সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক আহম্মেদ বলেন, চায়না দুয়ারি জালের বিস্তার রোধে মৎস্য দপ্তর মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। নিষিদ্ধ জাল বিক্রি করা দোকানগুলোতে অভিযান পরিচালনার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।