মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২৬

সারজিস আলমকে হল ছাড়ার হুমকি দিয়েছিল ছাত্রলীগ বন্ধের দিনেও ছিল বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবরোধ

নিয়ামুর রশিদ শিহাব

২০২৪ সালের ৫ জুলাই। দিনটি ছিল শুক্রবার। এ দিনে কোটা বিরোধী আন্দোলনের জোরালো কোনো কর্মসূচি না থাকলেও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছিল। এছাড়া পরের দিন শনিবারের পূর্ব ঘোষিত দেশজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচির পক্ষে অনলাইন ও অফলাইনে প্রচারনা চালিয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা।

বন্ধের দিনও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে মানববন্ধন করেছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এই দিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছিল। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ক্যাম্পাস ছেড়ে শহরের রাজপথ অবরোধ করেছিল। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেছিল শিক্ষার্থীরা।

এদিকে কোটাবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক সারজিস আলমকে হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। নির্দেশ দাতা সবাই ছিল নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী। সারজিস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ও অমর একুশে হলের ছাত্র সংসদের সাবেক সদস্য। ৪ জুলাই বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে এ ঘটনাটি ঘটেছিল। এ দিকে সারজিসকে হল ছাড়া করার চেষ্টার খবর ছড়িয়ে পড়লে একুশে হলের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় একুশে হলের সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে একুশে হলের পাশাপাশি অন্যান্য হলের শিক্ষার্থীরা যোগ দেন। একপর্যায়ে ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে হস্তক্ষেপ করা হলে একুশে হলের অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতারা সারজিসের কাছে ক্ষমা চান। রাত একটার দিকে একুশে হলের প্রাধ্যক্ষ ঘটনাস্থলে এসেছিল। সারজিস হলে থাকবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শান্ত হন। কোটাবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা সারজিসের সহযোগীরা তাঁকে তাঁর হলের কক্ষে পৌঁছে দিয়ে আসেন।

২০২৪ সালের ৫জুলাই কোটা বিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সাদা দল। তারা মন্তব্য করেছিল, কোটা কখনো মেধার বিকল্প হতে পারে না। ঢাবির সাদা দলের আহ্ববায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান ও অধ্যাপক আবদুস সালাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতি প্রকাশ হয়েছিল।

আরো পড়ুন

আমতলীতে সড়ক হয়ে উঠেছে মরণ ফাঁদ! 

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি খানাখন্দে ভরে গেছে আমতলী-তালতলী সড়কের মানিকঝুড়ি থেকে কচুপাত্রা সড়কের ৮.৪ কিলোমিটার। এতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *