নিজস্ব প্রতিবেদক //
মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সাথে কুয়াশাঘেরা হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে সমগ্র বরিশাল। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টার আগে বরিশালে সূর্যের দেখা মেলেনি। বৃহস্পতিবার দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাসের কথা জানিয়ে রাতেও তাপমাত্রার পারদ ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাসের কথা বলে শুক্র ও শনিবার দিন-রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধির কথাও বলেছে আবহাওয়া বিভাগ।
তবে রোববার থেকে পুনরায় তাপমাত্রার পারদ নিচে নেমে যাবার আগাম খবর জানিয়ে রেখেছে আবহাওয়া দপ্তর। ডিসেম্বর মাসে বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩.৩ ডিগ্রির স্থলে বৃহস্পতিবার সকালে তাপমাত্রার পারদ ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। সাথে মাঝারি কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় সাধারণ মানুষের যুবুথুবু অবস্থা। ভোররাত থেকে সকাল প্রায় ১১টা পর্যন্ত কুয়াশায় ঘেরা ছিল মেঘনা অববাহিকার পুরো দক্ষিণাঞ্চল।
বড়দিনের বন্ধের পাশাপাশি, মৌসুমের সর্বনিম্ন¤œ তাপমাত্রার সাথে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বেশিরভাগ মানুষই ঘর থেকে বের হননি। তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের নিচে নেমে যাবার ফলে দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবনও অনেকটাই বিপর্যয়ের কবলে। তবে আবহাওয়া বিভাগ থেকে ‘দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ অবস্থানের কথা জানিয়ে তার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে’ বলে জানান হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগের ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩ মাসের দীর্ঘ মেয়াদি বুলেটিনে ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ৩-৯টি মৃদু থেকে ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মাঝারি এবং ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ২-৩টি তীব্র শৈত্য প্রবাহের আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে। এদিকে তাপমাত্রার পারদ নিচে নামতে শুরু করার মধ্যেই সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল যুড়ে নিউমোনিয়া সহ ঠান্ডাজনিত নানা ধরনের রোগব্যধীর প্রকোপও বাড়তে শুরু করেছে আশঙ্কাজনক হারে।
শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল জেনারেল হাসপাতাল সহ এ অঞ্চলের সবগুলো হাসপাতালের শিশু ও মেডিসিন বিভাগের মেঝেতেও এখন রোগীদের ঠাই মিলছে না। তবে কৃষিবীদদের মতে আবহাওয়া বিভাগের দীর্ঘ মেয়াদি পূর্বাভাস বাস্তব রূপলাভ করে একাধিক মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্য প্রবাহ বয়ে গেলে দক্ষিণাঞ্চলের বোরো বীজতলা ‘কোল্ড ইনজুরী’র কবলে পড়ার আশঙ্কার কথা জানান হয়েছে। পাশাপাশি গোল আলুর জমিও ‘লেট ব্লাইট’ নামে এক ধরনের ছত্রাকবাহী রোগে আক্রান্ত হবার আশঙ্কাও বাড়বে।
তবে তাপমাত্রার পারদ স্বাভাবিকের নিচে নেমে গেলে গমের উৎপাদন সঠিক মাত্রায় পৌঁছার জন্য সহায়ক হতে পারে বলেও মনে করছেন কৃষিবিদ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে, চলতি রবি মৌসুমে প্রায় ৩.৮৫ লাখ হেক্টরে বোরো আবাদের লক্ষ্যে ২০,৩১৭ হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি চলতি মৌসুমে প্রায় ৬০ হাজার হেক্টরে গমের আবাদ হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলে। চলতি রবি মৌসুমে বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ১৬ লাখ টন বোরো চাল ও দুই লক্ষাধিক টন গম উৎপাদনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কৃষিবীদগন।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।