মনপুরা প্রতিনিধি //
একসময় যার পরিশ্রমে চলত পুরো পরিবার, সেই টগবগে যুবক রাকিব (৩০) আজ শয্যাশায়ী। ভোলার মনপুরা উপজেলার হাজীরহাট ইউনিয়নের চর যতিন গ্রামের এই নছিমন চালক দুই বছর আগে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ড হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। জরাজীর্ণ ঘরের ছোট চৌকিতে শুয়ে এখন কেবলই মৃত্যুর প্রহর গুনছেন তিনি। অর্থের অভাবে থমকে গেছে তাঁর চিকিৎসা, আর অনাহারে দিন কাটছে স্ত্রী ও দুই সন্তানের।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে নছিমনে গাছ বোঝাই করার সময় হঠাৎ দড়ি ছিঁড়ে একটি বিশাল গাছ রাকিবের পিঠের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে তার মেরুদণ্ড ভেঙে শরীরের নিচের অংশ চিরতরে অচল হয়ে যায়। গত তিন বছরে তার চিকিৎসার পেছনে প্রায় ১১ লক্ষ টাকা ব্যয় করে পরিবারটি এখন নিঃস্ব। বর্তমানে নিজের চিকিৎসা তো দূরের কথা, দুই বেলা খাবারের জন্য প্রতিবেশীদের করুণার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাঁদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কর্মক্ষমতা হারিয়ে রাকিব এখন নিজের কাছেই নিজে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। একদিকে শরীরের অসহ্য যন্ত্রণা, অন্যদিকে সন্তানদের ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছে। প্রতিবেশী ও স্বজনরা জানান, রাকিব অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিলেন এবং তার আয়ে সংসারটি বেশ সুখেই চলত। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা পুরো পরিবারটিকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। উন্নত চিকিৎসা পেলে রাকিব হয়তো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারতেন, কিন্তু সেই সামর্থ্য এখন পরিবারের নেই।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু মুসা জানান, ভুক্তভোগী পরিবারটি আবেদন করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
অসহায় এই মানুষটিকে নতুন জীবন দিতে এবং তার সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার আকুল আবেদন জানিয়েছেন স্বজনরা। রাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ বা সরাসরি সহযোগিতা করতে চাইলে তার ব্যক্তিগত বিকাশ ও নগদ নম্বরে (০১৭৫৪৬৪৫২৮৩) যোগাযোগ করা যাবে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।