নিজস্ব প্রতিবেদক //
বরিশাল নগরীর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (বিডিএস) ক্লাবে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) এর উদ্যোগে যাকাত আদায়ের নিয়ম কানুন নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ৩ জানুয়ারি সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে যাকাত ব্যবস্থাপনায় প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ, যাকাতের ধর্মীয় তাৎপর্য, যাকাতের অর্থ সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণসহ সিজেডএমের বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।
সিজেডএম-এর এজিএম সহিদুল হাসানের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান ও সিজেডএমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ মামুন-উর-রশিদ-এর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের শরিয়াহ এডভাইজর ও এটিএন বাংলার ইসলামী বক্তা মাওলানা শাহ মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ।
উপস্থিত ছিলেন লেখক ও প্রাবন্ধিক তারিক মাহমুদ ও সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো: মহসিন রেজা। সভায় বক্তারা বলেন, যাকাতের মূল লক্ষ্য হচ্ছে গ্রহীতাকে আর্থিকভাবে সচ্ছল করে তোলা, যাতে আজকের গ্রহীতা আগামীতে যাকাত দিতে পারে, সাবলম্বী হতে পারে। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় যাকাতের বিকল্প নেই। দেশে আল্লাহর নির্দেশিত বাধ্যতামূলক এই ইবাদতটি সঠিকভাবে প্রতিপালন হচ্ছে না। ফলে দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বাড়ছে বৈষম্য।
ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় যাকাত দিয়ে সমাজের দরিদ্র বঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে বিশেষ কোন পরিবর্তন রাখাও সম্ভব হচ্ছে না। সেই চিন্তা থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম দেশে বেসরকারী সংস্থার উদ্যোগে যাকাত তহবিল গঠন করে তাতে সকলকে অংশগ্রহণের আহবান জানিয়ে আসছে। সেই ধারাবাহকতায় দেশেও বিগত ১৭ বছর ধরে যাকাত ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে সিজেডএম। ব্যক্তিগতভাবে যাকাত দিলে তা টেকসই হয় না। প্রতিষ্ঠানিক উপায়ে যাকাত প্রদাণ করলে টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সেই জায়গা থেকে সিজেডএম অনন্য ভূমিকা পালন করছে।
বক্তারা বলেন, সিজেডএম যাকাত তহবিল সংগ্রহ করে তা বঞ্চিত মানুষের প্রয়োজনে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিতরণ ও তত্বাবধান করার কাজটি সূচারুরুপে করে যাচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করার জন্য মূলধন হস্তান্তরসহ নানাবিধ কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে প্রায় ১৮ লাখ মানুষ সহায়তা পেয়েছে।
সিজেডএমের কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে জীবিকা বা আয়-বর্ধককর্মসূচি, প্রাক-প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ইনসানিয়াত বা জরুরী সহায়তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ও প্রাক প্রাথমিক গুলবাগিচা শিক্ষাকেন্দ্র, বেকার যুবক/যুব মহিলাদের কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান ও দাওয়াহ ইত্যাদি ।
সিজেডএম এ পর্যন্ত ১৮ হাজার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে বৃত্তিপ্রদান করেছে, ১৫টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা পরিচালনা করছে; এছাড়া ১০১ টি প্রাক-প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র ও ৭১টি জীবিকা প্রকল্প পরিচালনা করেছে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।