ফাহিম ফিরোজ, বরিশাল :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা ও মামলার একটি বৈচিত্র্যময় চিত্র। ব্যারিস্টার, চিকিৎসক ও উচ্চশিক্ষিত আইনজীবীদের পাশাপাশি ভোটের মাঠে রয়েছেন স্বশিক্ষিত কৃষক ও ব্যবসায়ীরাও। একই সঙ্গে কোনো কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছে বিপুল সংখ্যক মামলা, আবার অনেকে পুরোপুরি মামলাহীন।
বরিশাল-১: ব্যবসায়ী ও আইনজীবীদের আধিক্য:
বরিশাল-১ আসনে স্বশিক্ষিত মোঃ কামরুল ইসলাম খান (তাফসির কারক) এর বিরুদ্ধে রয়েছে ১টি মামলা। এমএসএস পাস জহির উদ্দিন স্বপন (ব্যবসা) এর বিরুদ্ধে ২টি মামলা এবং বিএসসি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান (ব্যবসা) এর বিরুদ্ধে রয়েছে ৮টি মামলা। এইচএসসি পাস মো. রাসেল সরদার মেহেদী (ব্যবসা) মামলাহীন। এলএলবি পাস সেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী (আইনজীবী) এর বিরুদ্ধে রয়েছে ১টি মামলা।
বরিশাল-২: মামলার সংখ্যায় বড় পার্থক্য:
এই আসনে এমএসএস পাস মোস্তাফিজুর রহমান মুন্সী (চাকরি) এর বিরুদ্ধে ২টি মামলা রয়েছে। এসএসসি পাস সরদার সরফুদ্দিন সান্টু (ব্যবসা) এর বিরুদ্ধে রয়েছে ১৪টি মামলা। কামিল পাস মাওলানা নেছার উদ্দিন (ব্যবসা), এমএসি পাস রঞ্জিত কুমার বাড়ৈ (পরামর্শক) ও এমএলএলবি পাস মো. তারিকুল ইসলাম (আইনজীবী) মামলাহীন। এমএসএস পাস আব্দুল মন্নান মাস্টার (শিক্ষকতা) ও এমএসএস ও এলএলবি পাস এম এ জলিল (আইনজীবী) এর বিরুদ্ধে একটি করে মামলা রয়েছে। এমএসএস পাস আব্দুল হক (আইনজীবী) এর বিরুদ্ধে ৩টি এবং স্বশিক্ষিত সাহেব আলী (ব্যবসা) এর বিরুদ্ধে ১টি মামলা রয়েছে।
বরিশাল-৩: ব্যারিস্টারসহ উচ্চশিক্ষিতদের উপস্থিতি:
বরিশাল-৩ আসনে বিএসসি পাস ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস (ব্যবসা) এর বিরুদ্ধে ২টি মামলা রয়েছে। কামিল পাস মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম মামলাহীন। এলএলবি পাস জয়নুল আবেদিন (আইনজীবী) এর বিরুদ্ধে রয়েছে ২৫টি মামলা। স্নাতক পাস ইয়ামিন এইচ এম ফারদিন (ব্যবসা), ব্যারিস্টার এট ল পাস মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া (আইনজীবী), এলএলএম পাস মো. আজমুল হাসান জিহাদ (স্বাধীন গবেষক) ও এসএসসি পাস ফখরুল আহসান (ব্যবসা) মামলাহীন। স্নাতক পাস গোলাম কিবরিয়া টিপু (ব্যবসা) এর বিরুদ্ধে রয়েছে ১৪টি মামলা।
বরিশাল-৪: সর্বোচ্চ মামলার রেকর্ড:
এই আসনে স্বশিক্ষিত আব্দুর জলিল (কৃষি) ও স্বশিক্ষিত আব্দুস সালাম খোকন (বেসরকারি চাকরি) মামলাহীন। এমএ পাস সৈয়দ এছাহাক মো. আবুল খায়ের (ধর্মীয় আলোচক) এর বিরুদ্ধে ১টি মামলা রয়েছে। বিএ পাস মো. রাজীব আহসান (ব্যবসা) এর বিরুদ্ধে রয়েছে সর্বোচ্চ ৮২টি মামলা। এমএ পাস মো. আব্দুল জব্বার (কলেজ শিক্ষক) এর বিরুদ্ধে রয়েছে ৩টি মামলা।
বরিশাল-৫: চিকিৎসক ও আইনজীবীদের অংশগ্রহণ :
বরিশাল-৫ আসনে এলএলএম পাস মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম (আইনজীবী), স্বশিক্ষিত আব্দুল হান্নান শিকদার (ব্যবসা), এমএসএস ও এলএলবি পাস মুয়াযযম হোসাইন হেলাল (আইনজীবী) ও এমএলএলবি পাস মোহাম্মদ সাইদুর রহমান (শ্রমিক) মামলাহীন। এমবিবিএস পাস মনীষা চক্রবর্তী (চিকিৎসক) এর বিরুদ্ধে ১টি মামলা রয়েছে। এলএলবি পাস মো. মজিবুর রহমান সরোয়ার (ব্যবসা) এর বিরুদ্ধে ১৪টি, এসএসসি পাস আখতার রহমান (ব্যবসা) এর বিরুদ্ধে ১টি এবং এমএ পাস সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম (শিক্ষকতা ও দাওয়াত) এর বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে।
বরিশাল-৬: তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন চিত্র:
এই আসনে এমবিএ পাস মো. কামরুল ইসলাম খান (কৃষিকাজ), মাস্টার্স পাস আব্দুল কুদ্দুস (বেসরকারি চাকরি) ও বিএ পাস মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মিয়া (ব্যবসা) মামলাহীন। কামিল পাস মোহাম্মদ মাহমুদুন্নবী (শিক্ষকতা) এর বিরুদ্ধে ৫টি, এমএসএস পাস আবুল হোসেন খান (ব্যবসা) এর বিরুদ্ধে ৭টি এবং এমএ পাস সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম (শিক্ষকতা ও দাওয়াত) এর বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে।
বরিশালের ছয় আসনে মোট ৪১ জন প্রার্থীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উচ্চশিক্ষিত হলেও মামলার ভারে কোনো কোনো প্রার্থী রয়েছেন বিতর্কের কেন্দ্রে। আবার ১৭ জন প্রার্থী পুরোপুরি মামলাহীন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন শিক্ষা, পেশা ও মামলার তথ্যের বিচারে ভোটারদের সামনে একটি স্পষ্ট বাস্তবচিত্র তুলে ধরেছে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।