ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠিতে প্রশাসনের নজরদারির অভাবে অবৈধ ইটভাটায় ভরাট হচ্ছে খাল ও ভাঙছে রাস্তাঘাট। মাটি কাটার কারণে ফসলি জমির উর্বরতা হারাচ্ছে, আর কালো ধোয়ায় ফসলের উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে ও পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে। নীতিমালা থাকলেও চোখে পড়ছে না কার্যকর তদারকি।
ঝালকাঠি জুড়ে নিয়ম অমান্য করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে বেনামি ইটভাটা। লোকালয়ের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে কৃষি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও বসতবাড়ির আশপাশে ইটভাটা তৈরি করা যাবে না বলে নিয়ম রয়েছে; কিন্তু তা মানছে কেউই না। ফলে ইটভাটার কালো ধোয়া ফসলি জমি ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
অপরদিকে ফসলি জমির গভীর থেকে মাটি তোলায় উর্বরতা হারাচ্ছে জমি। পাশাপাশি ইটভাটার ভাঙা ইট খালে ফেলে খাল দখল এবং পৌর এলাকার খালপাড়ের রাস্তায় ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
পৌর এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডের সুতালড়ি এলাকার আব্দুল রাজ্জাক রনি বলেন, আমাদের খালের ওপারে নলছিটি উপজেলার সীমানা শুরু। সেখানে একটি ইটভাটা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই ভাটা থেকে ভাঙা ইট খালে ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। ফলে আমাদের রাস্তা পানির চাপে ভেঙে যাচ্ছে। এখন রাস্তার অস্তিত্বই বিলীন হওয়ার পথে।
সদর উপজেলার বিকনা এলাকার কৃষক আব্দুর রহিম জানান, ফসলি জমির মধ্যে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ইটভাটা তৈরি করেছেন। তাই আমরা কিছুই বলতে পারি না। ভাটার কালো ধোয়া ও ধুলো আমাদের ধানের ক্ষেতে কুয়াশার মতো পড়ছে। ধান সব চিডা হয়ে যাচ্ছে। এলাকার নারকেল ও সুপারি ফলনও দিন দিন কমছে।
পরিবেশ আন্দোলন কর্মী মাহাবুব সৈকত বলেন, ইটভাটার মাটির জোগান আসে ফসলের জমি ও নদীর চর থেকে। প্রতিবছর জমির টপ সয়েল কেটে নেয়ার ফলে ধান উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষি জমিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে।
তবে পরিবেশ অধিদফতর জানিয়েছে, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ঝালকাঠি পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আনজুমান নেছা বলেন, গত বছর ২৫টি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ৩২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। চলতি বছরও বেশ কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযোগ পেলেই ক্ষতিকর এসব ইটভাটা বন্ধ করা হবে। পরিবেশ অধিদফতরের হিসেব অনুযায়ী, জেলার ৪১টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ১৯টি বৈধ, বাকি ২২টি কোনো অনুমোদন ছাড়াই চলছে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।