মা-পাখি, সাহাবি আর নবিজির গল্পো
একদিন রোদ উঠলো ।
গমের দানার মতো একত্র হলো সাহাবিরা ।
উৎফুল্ল রোদের কন্দর স্পর্শ করলো
মাটি , বৃক্ষরাজি, আর মনুষ্যসম্প্রদায় ।
খেজুর গাছের সবুজ যেরকম মনোযোগী হয় —
মানুষের ছায়া যেরকম অবধারিত হয় —
রক্ত যেরকম শরীরে প্রবাহিত হয়
আনন্দ যেরকম গৌরবান্বিত হয়–
তেমন উচ্ছ্বাস নামলো পৃথিবীতে
তেমন বদান্যতা নাজিল হলো দিবসে ।
কী সুন্দর পাখির ছানা! — একজন সাহাবি বললেন।
কী মনোরম ! কী অদ্ভুত চোখ!
–বললেন হৃদয়ের ভেতর ঢেউ তুলে ।
নবির চোখে তখন ব্যথার বর্ণমালা বাক্য হয়ে ফুটে উঠেছে।
নবির চোখে তখন কষ্টের তীব্র স্রোত;
যেন বইছে উত্তাল নদী ।
বললেন, তুমি পাখিটির মাকে কেন অস্থির করেছো ?
কেন ওর মা-বাবাকে নিঃস্ব করেছো ?
শোনো, নিষ্ঠুরতার পাণ্ডুলিপি রচনা কোরো না ।
মা পাখির কাছে যাও।
দেখ, মা কাঁদতে কাঁদতে কীরকম অস্থির হয়ে আছে।
ওকে মা-বাবার কাছে রেখে এসো ।
মায়ের জন্য প্রশান্তি বহন করো:
বাবার জন্য স্নেহ ও মমতা।
দ্যাখো, কাউকে খাঁচায় বন্দি করো না ।
মানবিক আচরণ থেকে নিজেকে বঞ্চিত করো না ।
যে অপহরণ করে
সে অভিশপ্ত।
যে মায়ের কাছ থেকে সন্তান ছিনিয়ে আনে
সে ক্ষতিগ্রস্ত
যে বাবার কাছ থেকে তার আদর ও স্নেহ কেড়ে নেয়
সে সূর্যের মতো আকাঙ্ক্ষা থেকে দূরে থাকবে ।
তারপর, আলো জ্বলে উঠলো ।
তারপর , আনন্দ নাজিল হলো
সাহাবি দৌড়াতে দৌড়াতে পৌঁছলো মা- পাখির কাছে ।
সাহাবি চোখ নিক্ষেপ করলো বাবা -পাখির দিকে ।
মা -পাখি ফিরে পেলো উষ্ণতা।
কেননা, সে সন্তানকে পেয়ে হৃৎপিণ্ড ফিরে পেলো ।
বাবা -পাখি ফিরে পেলো তাবৎ রোদ ।
কেননা, সে সন্তানকে পেয়ে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করতে পারলো ।
আনন্দ যেরকম গৌরবান্বিত হয় ।
হৃদয় উৎফুল্ল হয়
একদিন নবিজি মা-পাখি আর বাবা-পাখির ভেতর
উৎসব ফিরিয়ে আনলেন ।
মানুষ
দরোজা বন্ধ ছিলো,
জানালাও।
বাতাসের সবুজ ঘোড়ায় চড়ে এলো ভোর।
ডাক দিলো,”ও মানুষ,বাড়ি আছো?”
কোনো উত্তর এলো না।
ভোর ফিরে গেলো বিষণ্ন মুখে।
কত রোদ হাসলো!
শিশুরা হইচই করলো।
রজনীগন্ধার রাত হলো।
টুথপেস্টের মতো প্রেম আবেদন কামনা করলো।বসন্ত প্রবেশ করতে চাইলো বৈঠকখানায়,
বারান্দায়।
অবশেষে সে বাগানে ঢুকে আশীর্বাদ ছড়ালো।
কত নৈবেদ্য হলো!
কোনো প্রতিক্রিয়া এবং আবশ্যিক ঢেউ শব্দ করলো না।
জানালা বন্ধ ছিলো,
দরোজাও।
নৈঃশব্দ্যের ডাকপিওন এলো লাল প্রতীক্ষা নিয়ে।
ডাক দিলো,”ও মানুষ,বাড়ি আছো?”
কেউ সাড়া দিলো না।
ডাকপিওন চলে গেলো সূর্যাস্তের মতো।
বাইরে আগুন লাফিয়ে উঠলো ফুল ফুটিয়ে।রন্ধনবিদ্যা শিল্প হলো।
বৃক্ষ পেলো সভ্যতার স্বীকৃতি।
পাখি নানাবিধ পাঠে আকাশবিদ্যা আত্মস্থ করলো।
পাহাড় আভিজাত্য ছড়ালো।
তার গৌরবে পৃথিবী পুষ্পমাল্য দিলো।
সমুদ্র বিশালত্ব নিয়ে এলো।
রঙ ছড়িয়ে পড়লো সর্বত্র।
শব্দ করে উঠলো পৃথিবী।
শুধু মানুষেরই কোনো শব্দ হলো না।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।