পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
‘বিএনপির লোক আপনি থানায় নিতে পারবেন না। তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত মানছি, অন্য কিছু না। আমরা গণঅধিকার করি না, বিএনপি করি। দুই আসামিকেই নিতে হবে।’—ওয়ারেন্টভুক্ত ছাত্রদল নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে এমন কথা বলছেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশার ও তাঁর অনুসারী ব্যক্তিরা। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি স্থানীয় ছাত্রদল নেতা রাকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে যান দশমিনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম। এ সময় গ্রেপ্তারে বাধা দিয়ে পুলিশকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশার এবং আসামির অনুসারী প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যক্তি। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে পুলিশ সদস্য ও ছাত্রদলের মধ্যে তুমুল বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলে পরে অতিরিক্ত পুলিশের সহায়তায় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের জেরে গতকাল রাতে উপজেলা ছাত্রঅধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক হাসান মাহামুদের ওপর হামলা চালান আসামির অনুসারী ব্যক্তিরা। একই সময়ে উপজেলা গণঅধিকারের সদস্যসচিব মিলন মিয়ার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আহত হাসান মাহামুদ বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। দশমিনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত সময়ের একটি মামলায় গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর আদালত ছাত্রদল নেতা রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গতকাল রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে গেলে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বশার ও তাঁর অনুসারীরা বাধা দিয়ে আসামিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাই। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানোর পর আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসি।’
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।