বৃহস্পতিবার, মার্চ ১২, ২০২৬

বরিশালের জন্য বরাদ্দ সৌদি খেজুর গেল কোথায়?

আরিফ আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদকঃ 
বরিশাল জেলার ১০ উপজেলার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২৩৪ কার্টুন বা ৭০ মন খেজুর। অতচ সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা মেম্বার কেউই জানেন না রমজানের উপহার হিসেবে আসা সৌদি  খেজুর সম্পর্কে। টুঙ্গিবাড়িয়া, চাঁদপুরা, কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারগণ সৌদি উপহারের খেজুরের কথা শুনে যেন আকাশ থেকে পরলেন। ইতিপূর্বে পলাতক সরকারের লোক, নেতাকর্মী ও এমপি-মন্ত্রীরা ব্যাক্তিগত দান-সদকা হিসেবে খেজুর বিতরণ করেছে। কিন্তু সৌদি আরব থেকে উপহারের খেজুর সম্পর্কে এই প্রথম শুনলেন বলে জানান একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য।
এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ‘কিং সালমান হিউম্যানিটিরিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারে’র পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে ১২ হাজার ৫০০ কার্টুন খেজুর উপহার দেওয়া হয়েছে। এসব খেজুর গত ১ মার্চ জেলাভিত্তিক বণ্টনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর। পরবর্তীতে একই তারিখ ও স্মারকের ৫ মার্চ স্বাক্ষরিত সংশোধিত বরাদ্দপত্রে ১২ হাজার ২৫০ কার্টুন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এদিকে গত ৫ মার্চ একইদিন বরিশাল জেলার জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২৩৪ কার্টুন খেজুর। প্রতি কার্টুনের ভিতর ১২ কেজি খেজুর থাকলে ২৮০৮ কেজি বা ৭০ মন  খেজুর বরাদ্দ হয়েছে একটি জেলার জন্য।  বরিশাল জেলায় মোট উপজেলা ১০টি এবং ইউনিয়ন রয়েছে ৮৬টি। গত ৫ মার্চ থেকে এই খেজুর গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার কথা থাকলেও ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানজুরা মুশাররফ জানালেন, তার কাছে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ শাখা থেকে কিছু খেজুর এসেছে। তিনি এখনো রিসিভ করেন নাই। কতটুকু খেজুর বা কেন রিসিভ করেন নাই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন তিনি।
অথচ ১২ মার্চ বরিশালের জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন জানালেন, ত্রান শাখা হতে উপজেলা ওযারী উপবরাদ্দ দেয়া হয়ে গেছে। আর তারই উপজেলা নির্বাহী অনেকে এখনো রিসিভ করেন নাই। আবার অনেকে এতিমখানায় দান করে দিয়েছেন বলে জানালেন।  বাকেরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ জানালেন, তিনি গতকাল ১৩৫ কেজি খেজুর রিসিভ করেছেন। তার উপজেলায় মোট ১৪টি ইউনিয়ন রয়েছে। মাদ্রাসা সংখ্যা অগণিত। সে তুলনায় বরাদ্দ খুবই সামান্য। তাই বাছাইকৃত এতিমখানাগুলোতে প্রাপ্ত খেজুর বিলিয়ে দিয়েছেন বলে জানান তিনি ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল অঞ্চলের জন্য বরাদ্দকৃত খেজুর গত ৮ মার্চ এসে পৌছেছে। বরিশালে ২৩৪, পটুয়াখালীতে ২০২, ভোলায় ১৮৭, পিরোজপুরে ১৩৯, বরগুনায় ১১০, ঝালকাঠিতে ৮২ কার্টন বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত ৫ মার্চের বরাদ্দ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জেলার জনসংখ্যা ও ইউনিয়নের আনুপাতিকহারে খেজুর বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে এসব খেজুর বিতরণ করা হবে। জনসংখ্যার অনুপাত ও ইউনিয়নের সংখ্যা বিবেচনা করে এই খেজুর বণ্টন করা হয়েছে বলে সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে উপহারের এই খেজুর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ১০ মার্চ মঙ্গলবার রাতে এক ফেসবুক লাইভে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, তার উপজেলায় ৩৯ কার্টন খেজুর বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তার এই বক্তব্যের পর জেলাজুড়ে খেজুরের সঠিক হিসাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
শুরুতে বরাদ্দের পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকলেও গত ৫ মার্চের নতুন আদেশে তা সংশোধন করে ১২ হাজার ২৫০ কার্টনে নামিয়ে আনা হয়।

আরো পড়ুন

বাবুগঞ্জে ২৫ ও ২৬ মার্চ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

বাবুগগঞ্জ প্রতিনিধিঃ  বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় আগামী ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ এবং ২৬ মার্চ ‘মহান স্বাধীনতা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *