ফাহিম ফিরোজ, বরিশাল : বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ঈদুল ফিতর ও মহান স্বাধীনতা দিবসের দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। ছুটি শেষে কর্মজীবনে ফিরতে গিয়ে লঞ্চঘাট ও বাস টার্মিনালগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যাত্রীচাপ, বাড়ছে ভোগান্তিও।
শুক্রবার সকাল থেকেই বরিশাল লঞ্চঘাট, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় কর্মস্থলে ফিরছেন। কাউন্টারগুলোতে টিকিট সংগ্রহে দীর্ঘ লাইন, আর ঘাট এলাকায় লঞ্চে উঠতে হুড়োহুড়ি করতে দেখা যায় যাত্রীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, লঞ্চঘাট এলাকায় যাত্রীদের ভিড় সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। তবে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে অনেকেই নির্ধারিত সময়ে লঞ্চে উঠতে পারছেন না। কেউ কেউ আবার বাধ্য হয়ে ডেক বা খোলা জায়গায় যাত্রা করছেন।
ঝালকাঠি থেকে ঢাকাগামী যাত্রী ইমরান বলেন, “ঈদের সময় সড়ক পথে বাড়ি এসেছিলাম। এখন লঞ্চে করে ফিরছি। কিন্তু এত ভিড় যে ঠিকমতো দাঁড়ানোর জায়গাও নেই। তারপরও যেতে হবে, কারণ আগামীকাল থেকেই অফিস।”
উজিরপুর থেকে মুন্সিগঞ্জগামী রায়হান বলেন, “সড়ক পথে সব সময়ই কিছুটা যানজট থাকে। কিন্তু ঈদকে কেন্দ্র করে এবার চাপ আরও বেশি। বাসে উঠতেই অনেক সময় লাগছে।”
গার্মেন্টস কর্মী প্রিয়া বলেন, “পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি এসেছিলাম। এখন আবার কাজে ফিরছি। ছুটি বেশি নেওয়া যায় না, তাই ভিড়ের মধ্যেই রওনা দিয়েছি।”
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ১৩টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে। প্রতিটি লঞ্চেই ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত যাত্রী বহন করতে দেখা গেছে। এছাড়া বিকেল ও রাতের লঞ্চগুলোতেও যাত্রীচাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সড়ক পথেও যাত্রীচাপ বেড়েছে। বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ধীরগতির সৃষ্টি হচ্ছে। তবে বড় ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ছুটি শেষে আরও দুই থেকে তিন দিন যাত্রীচাপ অব্যাহত থাকবে। যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করতে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের অনেকেই দাবি করেছেন, বাড়তি লঞ্চ ও বাসের ব্যবস্থা করা হলে ভোগান্তি কিছুটা কমবে। অন্যথায় এমন চাপের মধ্যে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।