ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠি পৌরসভার পশ্চিম ঝালকাঠি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কুমারবাড়ি থেকে বাসন্ডা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি এখন নদীভাঙনের ভয়াল থাবায় অস্তিত্ব সংকটে। এক সময় এলাকার মানুষের চলাচলের প্রধান ভরসা থাকা এই সড়কের বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। অবশিষ্ট অংশও যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সড়কটি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে সম্প্রতি ঝালকাঠি পৌরসভার প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।
আবেদনপত্রে সড়ক পুনর্নির্মাণ, স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম ঝালকাঠি, কুমারবাড়ি, পালপাড়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের যাতায়াতের একমাত্র সহজ মাধ্যম এই সড়ক। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ মানুষ এ পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনের নদীভাঙনে সড়কটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নদীর তীর ঘেঁষে থাকা অংশগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম পাল, যুগল পাল, ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম, দুলাল পাল, পরান পাল, জীবন পাল, বেলা রানী পাল, মিলন মিয়া, জুলু মিয়া ও দ্বীন ইসলাম বলেন, “বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনের কারণে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন সময় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। প্রতিদিন ভাঙনের পরিমাণ বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো সড়ক নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে এবং কয়েকটি এলাকার মানুষের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।”
তারা আরও বলেন, “শুধু যোগাযোগ নয়, ভাঙনের কারণে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে। রাতে কিংবা বর্ষাকালে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
লিখিত অভিযোগে মোহাম্মদ শাহজালাল খলিফা বলেন, “এটি শুধু একটি সড়ক নয়, কয়েক হাজার মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।” আবেদনে চারটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
দাবিগুলো হলো— কুমারবাড়ির উত্তম পালের বাড়ির সামনের অংশ থেকে বাসন্ডা ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক পুনর্নির্মাণ ও পাকা করণ, স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প অনুমোদন, জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে নদীভাঙন রোধ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন অব্যাহত থাকলেও দৃশ্যমান কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে আগামী বর্ষা মৌসুমে সড়কটির বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে সড়কটি রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।