ফরিদ আহমেদ, নেছারাবাদ প্রতিনিধিঃ
টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়ী থেকে জিলবাড়ী পর্যন্ত এলজিইডির আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির বিভিন্ন অংশ খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অন্তত পাঁচটি গ্রামের মানুষের গুরুপ্তপূর্ন সড়কটি ভেঙে পড়ায় ওই সড়কে বন্ধ হয়ে গেছে অটোরিকশা, ভ্যানসহ সব ধরনের হালকা যানবাহন চলাচল। অথচ দিনের পর দিন সড়কের ভাঙন অব্যাহত থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এতেকরে বিন্না, রাজাবাড়ী, জিলবাড়ী,উড়িবুনিয়া,লেবুবাড়িসহ অন্তত পাঁচটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, রোগী ও কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ সীমাহীন আকারে ধারন করেছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, রাজাবাড়ির মহিউদ্দিন চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের অংশ থেকে বিন্না বাজার হয়ে জিলবাড়ী পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ধস নেমেছে। দীর্ঘ কয়েক বছরের খালভাঙনে সড়কের বড় অংশ আগেই বিলীন হয়েছে। সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে অবশিষ্ট অংশেও সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত, যা এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয়রা ভাঙা অংশে অস্থায়ীভাবে কাঠের তক্তা ও ছোট সাঁকো বসিয়ে কোনোমতে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সরু পথ দিয়ে চলাচল করছেন যাত্রীরা।
স্থানীয়রা জানান, এ সড়ক দিয়ে কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৪টি মাদ্রাসা সহ শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। এমনকি সড়কটি দিয়ে পাশ্ববর্তী নাজিরপুরের তিনটি ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াত করে হাটবাজার করতে আসে, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দূরদূরান্তের মানুষসহ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি অসুস্থ রোগী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের উপজেলা সদরে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও এলজিইডির পক্ষ থেকে স্থায়ী সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে প্রতি বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সড়কটির অবশিষ্ট অংশও খালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সবার আগে বলদিয়া সেচ্ছাসেবি সংগঠনের সাধারান সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত ইউনিয়নের সাতটি গ্রামসহ পাশ্ববর্তী নাজিরপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মানুষ চলাচল করে। সড়কটি দিয়ে অটো ভ্যানে করে তাদের উপজেলা সদরের দরকারি কাজসহ ইন্দেরহাট মিয়ারহাট বাজারে আসতে হয়। সড়কটি ধসে পড়ায় যান চলাচল বর্তমানে বন্ধ হয়ে গেছে। মানুষ পায়ে হেটে উপজেলাসহ ইন্দেরহাটে আসছে। বিশেষ সমস্যায় পড়েছে এলাকার অসুস্থ মানুষ,বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীরা। অতি দ্রুত সড়কটি সংস্কার না হলে দুর্ভোগ লাগব হবেনা।
বলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইদুর রহমান জানান, সড়কটি পূর্ব থেকেই নাজুক অবস্থা। বর্তমানে রাজাবাড়ী থেকে বিন্না পর্যন্ত বেহাল অবস্থা হয়ে পড়েছে। বর্ষায় রাস্তাটির কোন কোন অংশ থেকে খালের মধ্য বিলীন হয়ে গেছে। সড়কে অটো চলতে পারছেনা। তিনি বলেন, আমি একবার রাস্তাটি টেন্ডারে দিয়েছিলাম। তা আর আলোর মুখ দেখেনি। অতিদ্রুত রাস্তাটি সংস্কার প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কার এবং স্থায়ীভাবে ভাঙনরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।