মঙ্গলবার, জুন ৯, ২০২৬

দুর্ঘটনায় মা-বাবা ও ভাই হারানো রহমাতের পাশে এমপি মাসুদ সাঈদী

‎জাকির হোসেন : ‎গোপালগঞ্জে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা, বাবা ও ভাইকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া ১১ বছর বয়সী শিশু রহমাতের পাশে দাঁড়িয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী।

‎রোববার (৩১ মে) বিকেলে নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের মুনিরাবাদ গ্রামে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন তিনি। এ সময় রহমাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং নিহত তিনজনের পরিবারের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ৭৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি এক মাসের খাদ্যসামগ্রীও বিতরণ করেন।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন সোহাগ (৩৭), তার স্ত্রী খাদিজা খাতুন (৩৪) ও তাদের ছেলে আরমান (৮)। গত ২৮ মে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায় দোলা পরিবহনের একটি বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের এই তিন সদস্যসহ মোট পাঁচজন নিহত হন।

‎দুর্ঘটনায় অলৌকিকভাবে বেঁচে যায় সোহাগের বড় ছেলে রহমাত। মাত্র ১১ বছর বয়সেই সে হারিয়েছে তার মা, বাবা ও ছোট ভাইকে। বর্তমানে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে দিন কাটছে তার।
‎নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এমপি মাসুদ সাঈদী বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। এত অল্প বয়সে রহমাত তার পুরো পরিবার হারিয়েছে। তার পাশে সমাজের সবাইকে দাঁড়াতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার দেখভালের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

‎তিনি আরও জানান, নিহত তিনজনের নামে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে প্রত্যেকের জন্য ৫ লাখ টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পরিবারটি এই সহায়তা পাবে।

‎এমপি মাসুদ সাঈদী বলেন, দেশে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, চালকদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ, সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। তিনি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

‎কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাসানাত ডালিম বলেন, “একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুতে পুরো মুনিরাবাদ গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এমন মর্মান্তিক ঘটনা আগে কখনও দেখিনি।”
‎শুক্রবার জানাজা শেষে নিহত তিনজনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাদের মৃত্যুতে এলাকায় এখনও শোক ও বেদনার আবহ বিরাজ করছে।

‎উল্লেখ্য, নিহত সোহাগ নারায়ণগঞ্জের আলীগঞ্জ এলাকায় একটি স’মিলে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। একই দুর্ঘটনায় নিহত অপর দুইজন বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ।
‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাজিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাসানাত ডালিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আরো পড়ুন

নেছারাবাদে প্রতিপক্ষের হামলায় অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর গর্ভপাত, থানায় জিডি 

ফরিদ আহমেদ, নেছারাবাদ : পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদের বলদিয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়ী গ্রামে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *