মোঃ ফারহান হাসান : গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী জাতীয় খেলা হাডুডুকে ঘিরে আবারও প্রাণ ফিরে পেল ভোলার দৌলতখান। ঈদুল আজহা উপলক্ষে আয়োজিত হাডুডু টুর্নামেন্ট দেখতে শিশু-কিশোর, তরুণ-যুবক থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষের ঢলে মুখর হয়ে ওঠে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী মিয়ারহাট স্কুল মাঠ।
রোববার (৩১ মে) বিকেলে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আব্দুল মোমেনের উদ্যোগে এবং স্থানীয় তরুণ-যুবকদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্ট গ্রামীণ ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক খেলার প্রভাবে যখন গ্রামীণ খেলাধুলা বিলুপ্তির পথে, তখন হাডুডু ঘিরে মানুষের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আশার আলো দেখাচ্ছে বলে মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।
টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচে ‘এ’ দল ও ‘বি’ দলের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। শেষ পর্যন্ত ১১-৯ পয়েন্টের ব্যবধানে ‘এ’ দল বিজয়ীর মুকুট অর্জন করে। খেলার প্রতিটি মুহূর্তে দর্শকদের করতালি, উল্লাস আর উৎসাহ মাঠজুড়ে উৎসবের আবহ সৃষ্টি করে।
খেলা দেখতে আসা সিনিয়র সাংবাদিক শিমুল চৌধুরী বলেন, “হাডুডু আমাদের জাতীয় খেলা। অথচ এই খেলাটি এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। অনেক দিন পর এমন একটি আয়োজন দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে। এটি শুধু খেলা নয়, আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ।”
ভোলা জেলা মার্শাল আর্ট কোচ মো. আব্দুর রহমান হেলাল বলেন, “খেলার খবর পেয়ে আমরা দূর থেকে এসেছি। মাঠভর্তি দর্শক দেখে মনে হয়েছে মানুষ এখনো গ্রামীণ খেলাকে হৃদয়ে ধারণ করে। এমন আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন প্রজন্ম ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।”
ভোলা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সহ-সভাপতি মো. ফয়সাল হোসেন বলেন, “একসময় বিকেল হলেই গ্রামের মাঠে হাডুডু, গোল্লাছুট কিংবা কানামাছির মতো খেলা দেখা যেত। এখন সেগুলো প্রায় বিলুপ্ত। আজকের আয়োজন আমাদের সেই সোনালি দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।”
আয়োজকদের মতে, নতুন প্রজন্মকে গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং যুবসমাজকে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্য থেকেই এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।
তবে খেলার একপর্যায়ে সংঘর্ষপূর্ণ মুহূর্তে একজন খেলোয়াড় গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম। তিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৌলতখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান সাজু, ক্রীড়াবিদ মো. ফয়সাল আহমেদ, জেলা মার্শালাট কোচ মোঃ আব্দুর রহমান হেলাল, ক্রীড়াবিদ মো. আলমগীর হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আব্দুল মোমেন, সাংবাদিক শিমুল চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
হাজারো দর্শকের উপস্থিতি ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে দৌলতখানের এই হাডুডু টুর্নামেন্ট শুধু একটি খেলায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি হয়ে উঠেছে গ্রামীণ ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সুস্থ বিনোদনের এক অনন্য মিলনমেলা।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।