জাকির হোসেন : পিরোজপুর পৌর শ্মশানের কালী মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের চেষ্টা এবং মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১ জুন) ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মন্দিরের পুরোহিত ঠাকুর পঙ্কজ কাওয়ারী। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তদন্ত শুরু করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শ্মশান প্রাঙ্গণের কালী মন্দিরে থাকা শিবঠাকুরের মূর্তি ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া মন্দিরের কাপড়চোপড় পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিমার কিছু অংশে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালানো হয়। দুর্বৃত্তরা মন্দিরের প্রণামী বাক্স থেকে আনুমানিক ২ থেকে ৩ হাজার টাকা এবং সৎকারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্দিরের পুরোহিত ঠাকুর পঙ্কজ কাওয়ারী বলেন, “মন্দিরের কাপড়গুলো পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কাঁসা-পিতলের থালা, গ্লাসসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। প্রশাসন ও সকলের সহযোগিতায় আমরা যেন মন্দিরের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করতে পারি, সেই সহযোগিতা কামনা করছি।”
পৌর শ্মশান কমিটির সভাপতি সুনীল চক্রবর্তী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান কালী মন্দির সংলগ্ন শিবঠাকুরের মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে। ভাঙা প্রতিমার অংশ বাইরে এনে আগুনে পোড়ানো হয়েছে। এছাড়া শ্মশানের প্রধান ফটক ভাঙচুর করা হয়েছে এবং সৎকারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মন্দিরে থাকা টাকা ও মালামাল চুরির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা সেখানে প্রবেশ করেছিল। তবে এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।”
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, পৌর প্রশাসক মাহমুদুর রহমান মামুন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এদিকে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার বিকেলে পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহমেদ সিদ্দিকীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা জামায়াতের আমীর তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ বলেন, “ভোররাতে পৌর শ্মশান মন্দিরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জেনেছি। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।”
তিনি বলেন, “পিরোজপুরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি দীর্ঘ ও উজ্জ্বল ঐতিহ্য রয়েছে। এখানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে আসছেন। এ ধরনের ঘটনা সেই সম্প্রীতির জন্য হুমকিস্বরূপ এবং আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।”
তাফাজ্জল হোসাইন ফরিদ আরও বলেন, “আমরা পুলিশ সুপারের কাছে জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছি।”
তিনি জানান, পুলিশ সুপার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।