শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

সরকারি অফিসার পরিচয়ে নারীর বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

আমতলী প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলীতে সমাজসেবা কর্মকতা পরিচয়ে এক নারী প্রতারক লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  বৃহস্পতিবার আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। প্রতারনার শিকার ভুক্তভোগীরা, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন।
জানাগেছে, উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা এলাকার লতিফ মাদবরের মেয়ে জাকিয়া সুলতানা এলাকায় তাকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয় দেয়।
ওই পরিচয় দিয়ে তিনি বিভিন্ন এলাকার মানুষকে গভীর নলকুপ, ফ্যামিলি কার্ড, ভিজিডি কার্ড, বয়স্ক, বিধবা ও মাতৃত্বকালীন ভাতা দেয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে দেয়।  গত এক বছরে অন্তত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন কিন্তু কাউকে কিছুই দিতে পারেননি এমন অভিযোগ জসিমের। আজ-কাল দিব বলে ভুক্তভোগীদের ঘুরিয়ে আসছেন।
কিন্তু তার এমন প্রতারনার কর্মকান্ডে ভুক্তভোগীদের সন্দেহ হয়। গত এক মাস ধরে তার কাছে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার জসিম মিয়াসহ ১০ জন ভুক্তভোগী আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মোঃ জসিম মিয়া বলেন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসারের পরিচয় দিয়ে গভীর নলকুপ স্থাপন করে দেয়ার কথা বলে জাকিয়া সুলতানা আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু এক বছর গত হয়ে গেলেও তিনি নলকুপ দিচ্ছেন না। এখন টাকা চাইলে তিনি টালবাহানা করছেন। এ প্রতারক জাকিয়া সুলতানাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবী করছি।
রুস্তুম মৃধা, ফিরোজা বেগম, নুরজাহান বেগম ও মাহফুজা বেগম বলেন, জাকিয়া সুলতানা সমাজ সেবা অফিসার পরিচয় দিয়ে আমাদের কাছ থেকে গভীর নলকুপ বসানোর কথা বলে ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন। নলকুপতো দুরের কথা এখন টাকা দিতে অস্বীকার করছে। আমরা এ প্রতারক জাকিয়া সুলতানার বিচার দাবী করছি। পরিভানু, রোজিনা ও শাহিনুর বেগম বলেন, ভিজিএফ কার্ড করে  দেয়ার কথা বলে  আমাদের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
আমরা গরীর মানুষ অনেক কষ্ট করে টাকা যোগার করে দিয়েছি। মাহিয়া  বেগম বলেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেয়ার কথা বলে জাকিয়া সুলতানা আমার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়েছেন। ঋণ করে টাকা দিয়েছি। এখন ফ্যামিলি কার্ডও করে দেয়না আর টাকাও দেয় না। জাকিয়া সুলতানার মুঠোফোনে (০১৭১৮৩৩৯৮৫৭/০১৩১৪৪৪৬৫৯১) বারবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
আমতলী উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ মাঞ্জুরুল হক কাওসার বলেন, এই নামের কোন নারী কোন দিনই উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে কর্মরত ছিল না এবং এখনো নেই। তাকে ধরে পুলিশে দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
আমতলী থানার ওসি আবু শাহাদাৎ মোঃ হাচনাইন পারভেজ বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ওই নারী এলাকায় থাকেন না। তাকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরো পড়ুন

ফিসনেট প্রকল্প এর সহযোগীতায় বিশ্ব সমুদ্র দিবস-২০২৬ পালন

বরগুনা প্রতিনিধি।। জাতিসংঘ ২০০৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দিনটি স্বীকৃতি দেয়, যদিও এর ধারণাগত সূচনা আরও আগে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *