মেহেরাব হোসেন রিফাত : রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, বই বিনিময় ও আনন্দ র্যালিসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ১৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) কলেজের জিরো পয়েন্টে কলা ভবন-২ এর সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ১৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়।
এরপর জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া আনন্দ র্যালি পরীক্ষা ভবন, ব্যবসায় শিক্ষা ভবন ও মূল ভবন প্রদক্ষিণ করে প্রথম গেট, মসজিদ এলাকা হয়ে পুনরায় জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়। র্যালি শেষে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় ও বই বিনিময় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দীর্ঘ কয়েক বছর পর শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের দাবির পরে কলেজ প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। তবে প্রত্যাশার তুলনায় আয়োজন সীমিত হওয়ায় অনেকেই হতাশার কথাও জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ১৮৮৯ সালে মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান ১৩৭ বছর ধরে দক্ষিণাঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও বলেন, বিএম কলেজে শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষের অভাব, জলাবদ্ধতাসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহীন বলেন, সবশেষ ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি আনন্দ র্যালির আয়োজন করা হয়েছিল। এরপর আর কোনো প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়নি। এ বছর আবার আয়োজন শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি আয়োজন আরও সমৃদ্ধ করার বিষয়ে আমরা কাজ করব।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন সোহাগ বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার প্রেক্ষিতে, বিগত বছরের তুলনায় ছোট পরিসরে হলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে ১৩৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিএম কলেজের মতো একটি বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরও ব্যাপক ও জমকালোভাবে দুই থেকে তিন দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা সম্ভব ছিল। দুঃখজনকভাবে, কলেজ প্রশাসনের পর্যাপ্ত সদিচ্ছা ও পরিকল্পনার অভাবে সেই সুযোগটি বাস্তবায়িত হয়নি। তবুও আমরা আশাবাদী, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের আকাঙ্ক্ষা, মতামত ও অংশগ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ আরও বর্ণাঢ্য ও মর্যাদাপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের গৌরব ও ইতিহাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়োজনই শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা।
কলেজের আরেক শিক্ষার্থী আবির বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জমকালোভাবে আয়োজন করা হবে। কয়েক বছর পর অনুষ্ঠান হলেও এবার তেমন বড় কোনো আয়োজন দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটি হয়েছে। আগামীতে কলেজ কর্তৃপক্ষের সরাসরি উদ্যোগে আরও বৃহৎ পরিসরে আয়োজন হবে বলে আশা করি।
এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেলে কলেজের মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিএম কলেজের সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তকণ্ঠ, উত্তরণ ও ব্রজমোহন থিয়েটারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করবেন।
Daily Bangladesh Bani বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দৈনিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে, সমাজের অন্ধকার দিকগুলো উন্মোচন করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকারের প্রচার করি।