বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬

আমতলীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

আবু জিহাদ, আমতলী : বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের ০৪ নং ওয়ার্ড গেরাবুনিয়া গ্রামে মোসা. সানজিদা আক্তার (২১) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহতের স্বামী। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় স্বামী উজ্জ্বল তালুকদারের বাড়ি থেকে সানজিদা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে আমতলী থানা পুলিশ।

পরে রাত ১০টার দিকে মরদেহ থানায় নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত সানজিদা আক্তার পটুয়াখালীর কালিকাপুর ইউনিয়নের পসুরিবুনিয়া গ্রামের আবুবকর তালুকদারের বড় মেয়ে। ২০২২ সালে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয় আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের ০৪নং ওয়ার্ডের গেরাবুনিয়া গ্রামের মোহাম্মদ কাবিল তালুকদারের ছেলে উজ্জ্বল তালুকদারের সঙ্গে।

নিহতের পরিবার অভিযোগ করে জানায়, বিয়ের এক বছর পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বামী উজ্জ্বল তালুকদার ও শাশুড়ি মাকসুদা বেগম সানজিদার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। অভাবের সংসার থেকেও মেয়ের সুখের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন সময়ে প্রায় তিন থেকে চার লাখ টাকার মালামাল এবং নগদ ৪০ হাজার টাকা জামাইকে দেওয়া হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

নিহতের বাবা আবুবকর তালুকদার বলেন, যৌতুকের দাবিতে আমার মেয়েকে একাধিকবার মারধর করা হয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে মারধরের পর তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে আবার স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়। গত মাসেও একইভাবে নির্যাতনের পর মেয়েকে আমাদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। পরে তারা ভুল স্বীকার করে আবার মেয়েকে নিয়ে যায়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেয়েকে জীবিত আর ফিরে পেলাম না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে শাশুড়ি মাকসুদা বেগম জরুরী কাজে অন্যত্র যাওয়ার কথা বলে সানজিদাকে বাড়িতে রেখে যান। যাওয়ার সময় মাত্র এক কেজি চাল ও কয়েকটি আলু রেখে যান। তিন দিন পর ফিরে এসে ঘরের একটি কক্ষের তালা ভাঙা দেখতে পেয়ে সানজিদার বিরুদ্ধে চাল চুরির অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে স্বামী ও শাশুড়ি তাকে মারধর করেন বলে দাবি পরিবারের। এছাড়া ওই সময় সানজিদাকে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতেও দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সানজিদার মৃত্যুর বিষয়টি তাদের সরাসরি জানানো হয়নি। বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে অন্য একটি সূত্রের মাধ্যমে তারা মেয়ের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। পরে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান।

অন্যদিকে নিহতের স্বামী উজ্জ্বল তালুকদার মুঠোফোনে সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি আমার স্ত্রীকে অনেক ভালোবাসতাম। কী কারণে সে মারা গেছে, আমি জানি না। শ্বশুর যদি বলে আমি হত্যা করেছি, তাহলে আমার আর কিছু বলার নেই।

এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, আলামত সংগ্রহ এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো পড়ুন

গৌরনদীতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ইয়াবাসহ অভিযুক্ত আটক

সোলায়মান তুহিন, গৌরনদী : বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহাজিড়া এলাকায় স্থানীয়দের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *