শনিবার, জুন ২৭, ২০২৬

শিক্ষক সংকটে শেবামেক ডেন্টাল ইউনিট: ৭৫ শতাংশ পদই শূন্য, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

খান আব্বাস,

খাতা-কলমে ৭৫ শতাংশ পদই শূন্য!, ৫২ জনের জায়গায় আছেন মাত্র ১১ শিক্ষক, অধ্যাপক শূন্য; সহযোগী ও সহকারী পদেও চরম ঘাটতি, ক্লিনিক্যাল বিভাগের ২৪ পদের ২০টিই খালি, ১ জন শিক্ষক সামলাচ্ছেন ৪-৫টি ডিপার্টমেন্ট।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) ডেন্টাল ইউনিটে তীব্র শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধানের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ শনিবার ক্যাম্পাস চত্বরে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ডেন্টাল ইউনিটের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ১৫টি ব্যাচ অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত ডেন্টাল ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক কাঠামো নিশ্চিত করা হয়নি। বর্তমানে মোট পদের বিপরীতে শতকরা মাত্র ২৫ ভাগ শিক্ষক নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ডেন্টাল ইউনিটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
মানববন্ধনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ডেন্টাল ইউনিটের একাডেমিক ও ক্লিনিক্যাল শিক্ষকদের একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট পদের প্রায় ৭৫ শতাংশই বর্তমানে খাতা-কলমে শূন্য।
পদভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১টি অধ্যাপক পদের বিপরীতে কোনো শিক্ষকই নেই। ৯ জন সহযোগী অধ্যাপকের মধ্যে আছেন মাত্র ২ জন এবং ১৪ জন সহকারী অধ্যাপকের পদের বিপরীতেও কর্মরত আছেন মাত্র ২ জন। এমনকি প্রবেশনারি পদ হিসেবে পরিচিত প্রভাষকদের ২৮টি পদের মধ্যে ১৯টিই খালি, কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন।”
৫২ জন একাডেমিক শিক্ষকের জায়গায় দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১১ জন। অর্থাৎ ৩৯টি পদই খালি পড়ে আছে।
ক্লিনিক্যাল বিভাগে মোট ২৪ জন শিক্ষকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। এখানেও ২০টি পদ সম্পূর্ণ শূন্য।
শিক্ষার্থীরা জানান, এই বিপুল সংখ্যক শূন্যপদের কারণে কর্মরত মাত্র কয়েকজন শিক্ষককে বাধ্য হয়ে ৪ থেকে ৫টি ভিন্ন ভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষা সামলাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ও গুণগত মান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিডিএস ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আল রাহাত এবং বিডিএস ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সোহাইলা ওমর উম্মাহ বলেন, “আমাদের এই আন্দোলনের কারণে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করা হয়নি। ডেন্টাল ইউনিটের ইন্টার্ন চিকিৎসক, রেজিস্ট্রার এবং ইনডোর চিকিৎসকেরা নিয়মিত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা কোনো ব্যক্তি বা প্রশাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়াইনি। আমরা আমাদের ন্যায্য শিক্ষার অধিকারের পক্ষে কথা বলছি।
শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “যেখানে শিক্ষকের এই ভয়াবহ ঘাটতি, সেখানে আমরা দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসক হিসেবে কীভাবে গড়ে উঠব? এই সংকট আমাদের ভবিষ্যৎ ও জনমানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য বড় হুমকি।
শিক্ষকদের এই তীব্র সংকট নিরসনের পাশাপাশি ডেন্টাল ইউনিটের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র ভবনের দাবি জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, দেশের অন্য সব সরকারি মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের নিজস্ব আধুনিক ভবন ও স্বতন্ত্র ক্যাম্পাস থাকলেও শেবামেক ডেন্টাল ইউনিট এক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার।
বর্তমানে হাসপাতালের একটি ভবনের তিন তলার সংকীর্ণ জায়গায় এই বিশাল ইউনিটের কার্যক্রম চলছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, স্থায়ী ভবন বরাদ্দ না হওয়া পর্যন্ত এই অস্থায়ী তিন তলার ভেতরের পরিবেশকে অন্তত দ্রুত আধুনিক, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও মানসম্মত শিক্ষা উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
শান্তিপূর্ণ এই মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান। শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অনতিবিলম্বে ডেন্টাল ইউনিটের এই ৩৯টি শূন্য একাডেমিক পদ ও ২০টি ক্লিনিক্যাল পদের বিপরীতে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া না হলে এবং অবকাঠামোগত সমস্যার দৃশ্যমান সমাধান করা না হলে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে সব ব্যাচের সাথে আলোচনা করে আরও কঠোর ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন।
এ বিষয় কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন বাবলু জানান, শিক্ষার্থীদের দাবিদার সম্পূর্ণ যৌক্তিক, আমরা এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় চিঠি প্রেরণ করেছি। এখনো করবো।

আরো পড়ুন

আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস উপলক্ষে বরিশালে জামায়াতের মাদকবিরোধী সাইকেল র‍্যালি অনুষ্ঠিত :

আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরিশাল মহানগরীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *