রবিবার, জুন ২৮, ২০২৬

পিরোজপুর মঠবাড়িয়া ফিশ মার্কেট উদ্বোধন ঘিরে পুরাতন ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ ‎’অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও বৈষম্যমূলক ভাড়ার অভিযোগ, ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন’

জাকির হোসেন:
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর ফিশ মার্কেট উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে দোকান বরাদ্দে অতিরিক্ত মূল্য নির্ধারণ ও বৈষম্যমূলক ভাড়া নির্ধারণের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মার্কেটের পুরাতন ব্যবসায়ীরা। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ আট বছর ধরে ব্যবসা থেকে বঞ্চিত থাকার পরও এখন নতুন করে অস্বাভাবিক অর্থ পরিশোধের শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা তাদের জন্য অন্যায় ও অমানবিক। বাপ দাদার আমল থেকে কেউ কেউ চান্দিনা ও কেউ কেউ ডিসিআর মালিক হিসেবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে।
‎রবিবার (২৮ জুন ) পিরোজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ীরা জানান, ২০১৮ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র রফিক উদ্দিন ফেরদৌসী ও এসি ল্যান্ড রিপন বিশ্বাস উদ্যোগে আধুনিক ফিশ মার্কেট নির্মাণের জন্য তাদের পুরোনো দোকানপাট ভেঙে ফেলে। সে সময় ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল, এক বছরের মধ্যে কোনো ধরনের অর্থ ছাড়াই তাদের দোকান ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু প্রতিশ্রুত সময় পেরিয়ে আট বছর অতিবাহিত হলেও তারা কোনো দোকান বুঝে পাননি।
‎লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বর্তমানে মার্কেট উদ্বোধনের আগে প্রতি বর্গফুট দোকানের জন্য ৬ হাজার থেকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং প্রতি বর্গফুটে ৩০ টাকা মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ পার্শ্ববর্তী বরগুনা জেলার একই ধরনের মার্কেটে প্রতি বর্গফুট দোকানের মূল্য ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই প্রতিষ্ঠান ও একই ধরনের প্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও মঠবাড়িয়ার ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে বেশি অর্থ নির্ধারণ করাকে বৈষম্যমূলক বলে অভিযোগ করেন তারা।
‎ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, তাদের পরিবার যুগের পর যুগ ওই ফিশ মার্কেটে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু এখন তাদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, মার্কেটে তাদের কোনো অধিকার নেই। এতে তারা চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে পড়েছেন। আট বছর ব্যবসা বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে বলেও দাবি করা হয়।
‎সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) হস্তক্ষেপ কামনা করে ব্যবসায়ীরা বলেন, তারা শুধু তাদের ন্যায্য অধিকার ও পূর্বের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন চান। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ায় পুরাতন ব্যবসায়ীদের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানান তারা।
‎ সংবাদ সম্মেলনের পূর্বে পুরাতন ব্যবসায়ীরা ডিসিঅফিসের সামনে একটি মানববন্ধনে মিলিত হন।
‎ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, বিষয়টি শুধু কয়েকজন ব্যবসায়ীর নয়; এটি শতাধিক পরিবারের জীবিকা ও অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। তাই প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন ব্যবসায়ীরা।

আরো পড়ুন

কৃষিতে নীরব বিপ্লব: সবজির সবুজ সমারোহে স্বাবলম্বী নীলগঞ্জের কুমিরমারা গ্রাম

মাহতাব হাওলাদার, মহিপুর প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রাম আজ কৃষি উৎপাদনের এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *