সোমবার, জুন ২৯, ২০২৬

লালমোহনে একটি সেতু জনদুর্ভোগের হেতু: প্রয়োজনে ভেঙ্গে নতুন করে গড়ার দাবী

শাহীন কামাল 

লালমোহন ডাকবাংলো সংলগ্ন সেতুটি বর্তমানে জন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। থানা সদরের সাথে পৌরসভার ৭ নং ও ৮নং ওয়ার্ড, বদরপুর ও কালমা ইউনিয়নের বিশাল অংশের লোকজন এই সেতু ব্যবহার করছে। সেতুটি সংযোগ করেছে বোরহানউদ্দিন উপজেলার একটা বড় অংশকে। ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নেও যাতায়াত করতে এই সেতু ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন অসংখ্য লোকজন নাজিরপুর হয়ে কালাইয়া দিয়ে পটুয়াখালী জেলায় প্রবেশ করছে এই পথে। কিন্তু নির্মাণ ত্রুটি তথা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অসতর্কতা হেতু নির্মিত এই সেতু জনগণের ভোগান্তির কারণ।

লালমোহন পৌরসভার ওয়েষ্টার্নপাড়াকে সংযুক্ত করা নির্মিত সেতুটি যথেষ্ট পরিমাণ উঁচু হওয়ার কারনে রিক্সা, টেম্পুসহ যেকোনো যানবাহন চলাচলে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। উঁচু সেতুকে চৌরাস্তার সাথে মিলানোর জন্য স্লভ কম হওয়ায় সচরাচর রিক্সা এ পথে যেতে চায় না। জনগণকে পায়ে হেঁটে সেতুতে উঠে নতুন বাহন নিতে হয়। ফলে যাতায়াত খরচ যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে দুর্ভোগ। পায়ে হেঁটে সেতুতে উঠা বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ লোকের জন্য প্রায় অসম্ভব।
এই সেতুর কারণে উভয় পাশের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। মাঠে বসে গেছে ঘর-মালিক আর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। শহরবর্ধন ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে এই সেতুর কারণে। লালমোহনের সবচেয়ে বড় কামিল মাদ্রাসার গেটে ইচ্ছে করলে রিক্সা কিংবা মোটরসাইকেল নিয়ে পৌঁছানো যাচ্ছেনা। ডাকবাংলোতে প্রবেশ করতে ঝক্কিঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। খাদ্যগুদাম অচল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তেমনি ওয়েষ্টার্ন পাড়াসহ পশ্চিম অঞ্চলের লোকজনের শহরে প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সেতুটি এতো উঁচু করার কারণ হিসেবে নৌযান চলাচলের খোঁড়া যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে যা বাস্তবতা আর বর্তমান নিরিখে অগ্রহণযোগ্য। বর্তমান সেতুটির পুর্বে সে সেতু এখানে ছিলো তার নির্মিত হয়েছিল ১৯৮৮ সালের দিকে। তখন এর সেতুর উচ্চতা এত পরিমাণ ছিল না। এই যে প্রায় ত্রিশ বছর কম উচ্চতার সেতু ছিল তখন নৌযান চলাচলের কথা আসেনি। সংগত কারণে নৌপথ শহর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সড়কপথে যোগাযোগ সহজতম হওয়ায় সময় বাঁচাতে মানুষ এখন আর আগের মতো নদীপথ ব্যবহার করছেনা। এই বাস্তবতা বুঝতে হবে। এই সেতুর কয়েক গজের মাথায় এক সময় লঞ্চঘাট ছিল। তা সময়ের পরিক্রমায় চলে গিয়েছে আরও দূরের লঞ্চঘাটে। এখন সেটা আছে? নেই তো। মানুষ ঘন্টাখানেক সময় বাঁচাতে নাজিরপুর আর মঙ্গলসিকদার চলে গিয়েছে। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করার সুযোগ কোথায়! এই সেতুর কয়েক গজের মধ্যে দক্ষিণ পাশে একটি স্টিলের ব্রিজ এখনও বিদ্যমান আছে। খাদ্যগুদামের মালামাল বহনে সেটি ব্যবহৃত হচ্ছে বিধায় এটি সরানো হয়নি। এই সেতু থেকে কয়েকগজ উত্তর পাশে উত্তরবাজারের ব্রিজের উচ্চতাও অনেক কম। অর্থাৎ কেউ চাইলেও উভয় পাশের সেতু দুটির উচ্চতা কম হওয়ার কারনে নৌযান প্রবেশ করাতে পারবে না। বাস্তবতা হচ্ছে, মালামাল পরিবহনের জন্য এই পথের প্রয়োজন ফুরিয়েছে বহুবছর আগে।
এই সেতুটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হওয়ার কারনে মানুষের সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে। প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে রিক্সা গাড়ি চলতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। ফলে মানুষ এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে ফুঁসে উঠেছে। নির্মাণকাল থেকে মানুষ এই সেতুর ত্রুটি নিয়ে সোচ্চার ছিলো। নানাবিধ কারণে মানুষ থেমে থাকলেও এবার মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়েছে। গত ২১ জুন কয়েকশত লোক এই সেতুকে ঘিরে দুই পাশে মানববন্ধন করেছে। এতে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সমাজকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ছাত্রসহ সকল পেশার মানুষ একত্রিত হয়েছে। প্রায় দুই ঘন্টার মানববন্ধনে বক্তারা এই সেতু সংস্কারের দাবি করেছেন। প্রয়োজনে এই সেতু ভেঙ্গে নতুন সেতু করার কথা বলেন তারা। মানুষের ভোগান্তি কমাতে সেতু নির্মাণ হলে প্রয়োজনে ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ অসম্ভব কেন- এমন প্রশ্ন তুলেন কেউ কেউ।
খাল- নদী চলমান রাখার দাবীতে একটি সেতুর ত্রুটিপূর্ণ  নির্মাণের কারণে পুরো একটা বিশাল এলাকা বিচ্ছিন্ন রাখা অপ্রত্যাশিত। গত কয়েক বছরে লালমোহনের অনেকগুলো খালসহ জলাধার ভরাট করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। উত্তরবাজারের ‘তেরসি পুল’ খ্যাত খালের জায়গায় সড়ক হয়েছে। সরকারি জায়গার খালে সরকারি অর্থে অবকাঠামো হয়ে পরিবেশের ক্ষতি করেছে, সেদিকে খেয়াল নেই। অথচ একটি সেতুর কারণে বিরাট একটা জনপদ আজ বিচ্ছিন্ন হতে চলেছে। এর অবসান হওয়া দরকার। সড়ক ও জনপদ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ এ বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, এমনটাই দাবী করেছেন এলাকাবাসী।
শাহীন কামাল, সহকারী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, নাজিউর রহমান কলেজ, ভোলা।

আরো পড়ুন

আমতলী পৌরসভায় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

আবু জিহাদ আমতলী  প্রতিনিধি : পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *