শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২৬

‎বাটাজোরে ফার্মেসি নিয়ে বিতর্ক: বাজার কমিটির বন্ধের নির্দেশের পরও চালু, রফাদফার চেষ্টার গুঞ্জন

সোলায়মান তুহিন, গৌরনদী (বরিশাল):

‎বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বাজারে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে মিল না থাকা ওষুধ সরবরাহের অভিযোগে ‘মা মেডিকেল হল’ নামে একটি ফার্মেসিকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর বাজার কমিটি ফার্মেসিটি সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় চালু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

‎অভিযোগকারী বাটাজোর ইউনিয়নের লক্ষণকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, গত ২৯ জুন টাইফয়েড ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত তার শিশুসন্তানের জন্য চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ইনজেকশন সংগ্রহ করতে তিনি বাটাজোর বাজারের মা মেডিকেল হলে যান। তার অভিযোগ, চিকিৎসক যে ওষুধটি প্রেসক্রিপশনে লিখেছিলেন, ফার্মেসি থেকে তার পরিবর্তে ভিন্ন একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়।

‎তিনি বলেন, ওষুধটি নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি জানান, এটি তিনি প্রেসক্রিপশনে লেখেননি। পরে আবার ফার্মেসিতে গেলে স্বত্বাধিকারী রিপন ভুলবশত অন্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

‎সিরাজুল ইসলাম আরও দাবি করেন, এটি প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ)-এ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের পরিবর্তে অন্য ওষুধ দেওয়ার কারণে তার সন্তানের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল।

‎ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। পরে বাজার কমিটির সিদ্ধান্তে ফার্মেসিটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

‎বাটাজোর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন বাবুল বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। প্রাথমিকভাবে ফার্মেসিটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার কমিটির ওই সিদ্ধান্তের পরও অল্প সময়ের মধ্যেই ফার্মেসিটি পুনরায় চালু করা হয়েছে।

‎এ বিষয়ে মা মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী মো. রিপন বলেন, চিকিৎসক ইসোমিপ্রাজল গ্রুপের ইসোনিক্স ২০ মিলিগ্রাম লিখেছিলেন। ভুলবশত ৪০ মিলিগ্রাম দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমরা তা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি।

‎পূর্বের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি কোনো ভুল ওষুধ দিইনি। চিকিৎসক একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের সাবান লিখেছিলেন। সেটি আমার কাছে না থাকায় একই ধরনের অন্য একটি সাবান দিয়েছিলাম।

‎তিনি আরও বলেন, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ ফার্মেসিটি বন্ধ রাখতে বলেছেন। আমি তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি এবং তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করছি।

‎এদিকে ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাজার কমিটি ফার্মেসিটি বন্ধ করে দিলেও পরে আবার সেটি চালু হয়ে যায়। এখনো কোনো প্রতিকার পাইনি। আমি চাই না বিষয়টি কোনোভাবে ধামাচাপা পড়ুক। প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তিনি আরও বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর শুনতে পাচ্ছি, বিভিন্নভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

‎এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের  একাংশের দাবি, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ফার্মেসির মালিক নিজের অবস্থান তুলে ধরতে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে নয়, প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা হোক। কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে যদি সংবাদ প্রকাশের পরিবর্তে ধামাচাপা বা রফাদফার চেষ্টা হয়ে থাকে, তবে তা কাম্য নয়। তারা বলেন, কোনো অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়া, পক্ষ নেওয়া কিংবা আপস-মীমাংসায় ভূমিকা রাখা সাংবাদিকতার নৈতিকতা ও পেশাগত দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

‎স্থানীয় সচেতন মহল আরও বলেন, চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সঠিক ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রতিটি ফার্মেসির নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। সামান্য অসাবধানতাও একজন রোগীর জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

‎এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, বাজার কমিটির সিদ্ধান্তের পরও ফার্মেসি পুনরায় চালুর কারণ অনুসন্ধান এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

আরো পড়ুন

কলাপাড়ায় পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক ভোগান্তি, ডিজিএমের কার্যকলাপে অতিষ্ঠ  কর্মচারীসহ উপজেলাবাসী

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া: পল্লীবিদুৎ সমিতির কলাপাড়া জোনাল অফিসের ডিজিএম শেখ আব্দুর রহমান’র কার্যকলাপে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *